Sporty Magazine official website |

লোকসভায় মারপিট, ভাঙচুর, মরিচের গুড়ো স্প্রে

Thursday, February 13, 2014

Share this history on :
অন্ধ্র প্রদেশকে দুই টুকরো করে পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্য গঠনের সিদ্ধান্ত  রুখে দিতে  আজ বৃহস্পতিবার ভারতের লোকসভা আক্ষরিক অর্থেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
লোকসভায় মারপিট
লোকসভায় মারপিট করে, সেক্রেটারি জেনারেলের টেবিলের কাচ ভেঙে দিয়ে, স্পিকারের মাইক উপড়ে ফেলে এবং গোল মরিচের গুড়ো স্প্রে করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তেলেঙ্গানার বিরোধী সাংসদেরা। এতে লোকসভার অনেক সদস্য, কর্মী এবং সাংবাদিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
১৮ সাংসদকে বরখাস্ত ঘোষণা
লোকসভা থেকে অনেক সদস্যকে  হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দফায় দফায় গোলমাল ও সভা মুলতুবির পর শেষ পর্যন্ত স্পিকার মীরা কুমার কংগ্রেস, তেলুগু দেশম এবং ওয়াই এস আর কংগ্রেসের মোট ১৮ জন সাংসদকে বরখাস্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন।
তেলেঙ্গানা বিল উত্থাপনের দাবি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
দিনভর চলা ওই গোলমালের মধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ডে দাবি করেন, তিনি তেলেঙ্গানা বিলটি উত্থাপন করে দিয়েছেন। এই দাবিকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। কারণ, সভার কর্মতালিকায় তেলেঙ্গানা বিলের উল্লেখ ছিল না। গতকাল বুধবার রাতে কংগ্রেস হঠাত্ করেই তেলেঙ্গানা বিলটি আজ পেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
পার্লামেন্টের বাইরে প্রস্তুত অ্যাম্বুলেন্স, কম্বল মজুত
কংগ্রেসের কাছে খবর ছিল, বিল উত্থাপনে বাধা দিতে তেলেঙ্গানা বিরোধীরা সহিংসতার আশ্রয় নেবে। এমনকী বিরোধীরা  রক্তারক্তি কান্ড ঘটাতে পারে বলেও সরকারের কাছে খবর ছিল। সরকার তাই  পার্লামেন্ট ভবন চত্বরে চারটি অ্যাম্বুলেন্স আগে থেকেই ঠিক করে রাখে। অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র এবং গাদাগাদা কম্বলও মজুত করা হয়। স্পিকারকে গোয়েন্দারা খবর দেয়, কেউ কেউ গ্যালারি থেকে সভাকক্ষে ঝাঁপও দিতে পারে। ফলে এই প্রথম লোকসভার গ্যালারি খালি রাখা হয়।
মারপিটের মধ্যেই বিল পেশ
কংগ্রেসের কৌশল ছিল, দিনের কর্মতালিকায় বিলটির উল্লেখ রাখা হবে না। আলাদাভাবে একটি কাগজে তেলেঙ্গানা বিল পেশের উল্লেখ করা হবে এবং সভার শুরুতেই সেটি পেশ করে দেবেন সুশীল সিন্ডে। বেলা এগারোটায় সংসদ বসলে এক মিনিটের মধ্যেই মুলতুবি হয়ে যায়। বেলা বারোটায় ওয়েলে পার্লামেন্টদের গিজগিজে ভিড়। কংগ্রেসের রাজ বব্বর, মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, লাল সিংরা মন্ত্রীদের আড়াল করতে দাঁড়িয়ে পড়েন। স্পিকার আসার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় তাণ্ডব। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সভা মুলতুবি হয়ে যায়। এরমধ্যেই সংসদে কাচ ভাঙল, চেয়ার তুলে মারার চেষ্টা হলো, গোল মরিচের গুড়ো স্প্রে করা  হলো এবং সিন্ডে দাবি করলেন তিনি বিলটি পেশ করে দিয়েছেন।
সরকারকেই দায়ী করেছে বিরোধীরা
অধিবেশনে তেলেঙ্গানা নিয়ে যা ঘটেছে  সে জন্য বিরোধীরা সরকারকেই পুরোপুরি দায়ী করছে। বিজেপির লালকৃষ্ণ আদবানি, সুষমা স্বরাজ, অরুণ জেটলি, সিপিএমের বাসুদেব আচারিয়া, তৃণমূল কংগ্রেসের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জনতা দলের (সংযুক্ত) শরদ যাদব প্রত্যেকেই কংগ্রেসকে দোষী মনে করছে। প্রত্যেকের বক্তব্য, কংগ্রেস নিজের দলকেই সামলাতে পারল না। এতবার নতুন রাজ্য গঠিত হয়েছে এমন হাল কোনো দিন হয়নি।
মনমোহন ও জেটলির সঙ্গে বাংলাদেশের স্পিকারের সাক্ষাত্
এসব গোলমালের মধ্যেই বাংলাদেশ সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী রাজ্যসভার বিরোধী দলের নেতা অরুণ জেটলির সঙ্গে দেখা করেন। তিনি  সন্ধ্যায় সাক্ষাত্ করেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সঙ্গে। গতকাল বুধবার তিনি দেখা করেছিলেন লোকসভার স্পিকার মীরা কুমারের সঙ্গে।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment