
আফগানিস্তানের বেঁধে দেওয়া ২১৩ রানের লক্ষ্যকে মামুলি বানিয়ে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব ১৯ দলের দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও জয়রাজ শেখ ৪২.২ ওভারেই দলকে পৌঁছে দিয়েছেন জয়ের বন্দরে। সাদমান হাঁকিয়েছেন অনবদ্য এক শতক। বাংলাদেশের এ বাঁ হাতির সৌজন্যে টুর্নামেন্টও দেখল প্রথম সেঞ্চুরি। অপরাজিত ১২৬ রানের কাব্যিক ইনিংসটি তিনি সাজিয়েছেন ১৪ চার ও ১ ছয়ে। অন্য ওপেনার জয়রাজ অপরাজিত ছিলেন ৮১ রানে।
সতীর্থ বোলারদের ওপর জয়রাজের ‘অভিমান’ হতেই পারে। আফগানিস্তানের স্কোরটা একসময় ২৬০-৭০ হবে বলেই মনে হচ্ছিল। শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের দুর্দান্ত বোলিং আর ফিল্ডিং আফগানদের রানের চাকা আটকে দেয়। এখন তো মনে হচ্ছে, সেটা না দিলে ‘ভালো’ হতো। জয়রাজও প্রাপ্য সেঞ্চুরিটা পেয়ে যেতেন!
এই টুর্নামেন্টে গত দুই দিনে মোট তিনজন ব্যাটসম্যান কাটা পড়েছেন নড়বড়ে ৯০-এ। ইংল্যান্ডের এড বার্নাড ৯৩, কুশল মেন্ডিস ৯১ ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যথু শর্ট ফিরেছেন ৯৬ করে। সাদমান সেখানে একেবারেই ব্যতিক্রম। টুর্নামেন্টের শুরুতেই দেখিয়ে দিলেন সেঞ্চুরি কীভাবে হাঁকাতে হয়! হোক না অনূর্ধ্ব ১৯ বয়সীদের টুর্নামেন্ট, তবুও বিশ্বকাপ তো। আর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভালো করাটা খুব জরুরি। বাংলাদেশ করেছে ঠিকঠাকভাবেই। স্বাভাবিকভাবেই আত্মবিশ্বাসও তুঙ্গে যুবাদের।
টসে জিতে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের দুই ওপেনার উসমান গনি ও মোহাম্মদ মুজতাবা ১৫.৫ ওভারে তোলেন ৬৯। আফগান মিডল অর্ডারও বেশ ভালো করেছিল। ৩৭.২ ওভারেও আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ১৪৪। মনে হচ্ছিল স্লগ ওভারে আফগান কবজির জোরে ঝড়ই হয়তো উঠবে। কিন্তু দুর্দান্তভাবে উল্টো ব্যাটসম্যানদের ওপর চাপ তৈরি করে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ ৭৬ বলে আফগান যুবারা তুলেছে মাত্র ৬৮। খুইয়েছে অবশিষ্ট ৬ উইকেট।
আফগানিস্তানের লাগাম টেনে ধরার মূল কাজটি করেন মোসাদ্দেক। ১০ ওভারে ১ মেডেনে ১৯ রান দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। মোসাদ্দেক প্রস্তুতি ম্যাচেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেন। এ ছাড়া রাহাতুল ফেরদৌস পান দুটি উইকেট।
0 comments:
Post a Comment