
সংশোধিত দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৮(গ) ধারা কেন সংবিধানপরিপন্থী হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
এই ধারায় মিথ্যা তথ্য প্রদানের দণ্ডের বিষয়ে বলা আছে।
আজ বুধবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ রুল জারি করেন।
স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদসচিব, আইনসচিব ও দুদকের চেয়ারম্যানসহ বিবাদীদের দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত বছরের ২০ নভেম্বর দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে সংশোধনী আনা হয়।
গত সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনূস আলী আকন্দ দুদক আইনের ২৮(গ) ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন। আজ আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত রায়।
২৮(গ) ধারার ১-এ বলা হয়, মিথ্যা জানিয়া বা তথ্যে সত্যের সম্পর্কে সম্পূর্ণ নিশ্চিত না হয়ে কোনো ব্যক্তি ভিত্তিহীন কোনো তথ্য (যে তথ্যের ভিত্তিতে এ আইনের অধীনে তদন্ত, বিচারকার্য পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে) প্রদান করলে তিনি মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন বলে গণ্য হবেন।
২. কোনো ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে এই ধারার অধীন অপরাধ করছেন বলে গণ্য হবে। ওই অপরাধের জন্য তিনি অন্যূন্য ২ বছর বা অনধিক ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
৩. তথ্য প্রদানকারী কমিশনের বা সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী হলে এবং তিনি উপধারা ১-এ উল্লিখিত কোনো মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে তাঁর বিরুদ্ধে উপধারা ২-এ উল্লিখিত দণ্ড প্রদান করা হবে।
রিট আবেদনকারীর যুক্তি এই ধারাটি সংবিধানের ২৬, ২৭ এবং ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এর ফলে অনেকে তথ্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করবে।
এর আগে সংশোধিত আইনে নতুন করে ৩২(ক) ধারা যুক্ত করে বলা হয়েছিল, এই আইনের অধীনে জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৭ ধারা আবশ্যিকভাবে পালন করতে হবে। ফলে সরকারের অনুমোদন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জজ ও ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে দুদক কোনো মামলা করতে পারবে না। এই আইন পাসের পর সব মহল থেকেই ব্যাপক সমালোচনা করা হয়।
এরপর আইনের ৩২(ক) ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের নভেম্বরে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে চার আইনজীবী রিট করেন।
গত ৩০ জানুয়ারি হাইকোর্ট দুদক আইনের সংশোধনীতে আনা ৩২(ক) ধারা অবৈধ ও সংবিধানপরিপন্থী ঘোষণা করে রায় দেন। ফলে এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে সরকারের অনুমতি লাগবে না।
0 comments:
Post a Comment