Sporty Magazine official website |

অপহৃত ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরী কুমিল্লায় উদ্ধার

Sunday, February 16, 2014

Share this history on :
চট্টগ্রামে অপহৃত হওয়ার ছয় দিন পর স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরীকে আজ সোমবার ভোরে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংশনগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও পরিবারের পক্ষ থেকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ দত্ত প্রথম আলোকে জানান, আজ ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বুড়িচং উপজেলার কংশনগর (কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়কের পাশে) থেকে মৃদুল চৌধুরীকে অচেতন অবস্থার উদ্ধার করা হয়।
মৃদুল চৌধুরীর ভাই শিমুল চৌধুরী আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, আজ ভোররাতে কুমিল্লার বুড়িচং থানার কংশনগর এলাকার এক নৈশপ্রহরী তাঁদের ফোন করেন। মৃদুল চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়ার দাবি করেন তিনি। পরে পুলিশকে জানানো হলে ওই ব্যক্তিকে বুড়িচং থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘ভাইয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাঁর সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। বুড়িচং থানায় থাকা লোকটিই আমার ভাই মৃদুল চৌধুরী। তাঁকে আনার জন্য আমরা রওনা হয়েছি।’
মৃদুল চৌধুরীর সন্ধান পাওয়ার কথা আজ সকালে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কমার মজুমদার।
মৃদুল চৌধুরী অপহরণ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘কে বা কারা মৃদুল চৌধুরীকে কংশনগর এলাকায় রেখে গেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁকে আনার জন্য আমরা কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয়েছি।’
১১ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম শহরের পুরোনো টেলিগ্রাফ রোডের বাসা থেকে দোকানে যাওয়ার সময় র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মৃদুল চৌধুরীকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। এর পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। এ ঘটনায় অপহৃ তের ভাই শিমুল চৌধুরী বাদী হয়ে ওই দিন রাতে নগরের কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি অপহরণ মামলা করেন। অপহরণের সঙ্গে র‌্যাব-পুলিশ জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে র‌্যাব ও পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
অপহৃ ত ব্যবসায়ীর ভাই শিমুল চৌধুরীর অভিযোগ, ‘গত বছরের ৩ অক্টোবর র‌্যাব-২-এর মেজর রকিবুল আমিন আমার ভাইয়ের প্রতিষ্ঠানের ৮০ ভরি সোনা কেড়ে নেন। এ ঘটনায় তিনি রকিবুল আমিন, র‌্যাবের সোর্স ফাহাদ চৌধুরী ও গাড়িচালক বাবুল পালের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে মামলা করেন। মামলা করার কারণে র‌্যাব আমার ভাইকে তুলে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করছি।’
মেজর রকিবুল আমিন এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন। টেলিফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘মৃদুল চৌধুরী নামের কোনো স্বর্ণ ব্যবসায়ীর লোকজনের কাছ থেকে ৮০ ভরি স্বর্ণ আমি বা র‌্যাবের কেউ নিইনি। আমি ওনাকে চিনিও না।’
ডিবি পুলিশও মৃদুল চৌধুরী নামের কোনো ব্যবসায়ীকে আটক করেনি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বনজ কুমার মজুমদার।
মৃদুলের গ্রামের বাড়ি হাটহাজারীর মিরেরখিল গ্রামে। পরিবার নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম শহরে ভাড়া থাকেন। চট্টগ্রাম নিউমার্কেটের দোতলায় একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান আছে তাঁর। এ ছাড়া শহরের হাজারী লেনেও তাঁর একটি পাইকারি সোনার দোকান আছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে গলানো সোনা গয়না তৈরির জন্য ঢাকার তাঁতীবাজারে পাঠানো হয়। গত বছরের ৩ অক্টোবর এ রকম ৮০ ভরি গলানো সোনা বেহাত হয়ে যায়।
মৃদুল চৌধুরী নিজে বাদী হয়ে এ ঘটনায় ঢাকার সিএমএম আদালতে মামলা করেন। তিনি মামলায় বলেন, গলানো সোনা ট্রেনে করে তাঁর বিশ্বস্ত কর্মচারী ও গাড়িচালক বাবুল পালকে দিয়ে ঢাকায় পাঠান। কমলাপুর রেলস্টেশনে এস আলম কাউন্টারে আসার পর র‌্যাব-২-এর মেজর রকিবুল আমিন ও তাঁর সোর্স ফাহাদ চৌধুরী জোর করে বাবুলকে গাড়িতে তোলেন। কিছু দূর যাওয়ার পর বাবুল পালকে নামিয়ে দিয়ে সোনা নিয়ে চলে যান রকিবুল। তিনি এ কথা জানার পর ফোনে মেজর রকিবুল আমিনের কাছ থেকে সোনা ফেরত চান। রকিব তাঁকে বলেন, যাচাই-বাছাই করে সোনাগুলো ফেরত দেওয়া হবে। এরপর তিনি আর সেগুলো ফেরত দেননি। সর্বশেষ ৩ ডিসেম্বর রকিবুল আমিন তাঁকে ফোনে বলেন, ভবিষ্যতে সোনাগুলো ফেরত চাইলে বিপদ হবে। মামলায় গাড়িচালক বাবুলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ী।
আদালত সূত্র জানায়, মুখ্য মহানগর হাকিম এ ঘটনা তদন্ত করার জন্য সিআইডি পুলিশকে নির্দেশ দেন। সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার বিজয় কৃষ্ণ কর তদন্ত করছেন। গত ১২ জানুয়ারি সিআইডি পুলিশ র‌্যাবের মেজর রকিবকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজয় কৃষ্ণ কর প্রথম আলোকে বলেন, সিআইডি ঘটনার তদন্ত করছে।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment