Sporty Magazine official website |

প্রিয় সাকিবকে ফিরে পেতে চায় সবাই

Saturday, February 22, 2014

Share this history on :
সাকিব কীভাবে পারলেন অমন করতে?

যাঁকে ‘বাংলাদেশের জান’ মনে করে বাংলাদেশের মানুষ। অভব্য আচরণের জন্য তিনি এই মুহূর্তে নিষিদ্ধ তিন ম্যাচের জন্য। সাকিবপ্রিয়রা ভেবে পাচ্ছেন না তাঁদের প্রিয় ক্রিকেটার এই কাজ কীভাবে করতে পারলেন?

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে স্বভাবতই তিনি ছিলেন বিরক্ত। মনের হতাশা যে এভাবে প্রকাশ করবেন, সেটা আর কে ভেবেছিল। টেলিভিশন ক্যামেরাকে সামনে পেয়ে তিনি যে অঙ্গভঙ্গি করলেন, সেটা তো আর লিখে বর্ণনা দেওয়া যায় না। কিন্তু ক্ষণিকের উত্তেজনায় তিনি যা করেছেন, সেটা যে তাঁর ভক্তদের মধ্যে তীব্র হতাশার জন্ম দিয়েছে, সেটা কী তিনি জানেন?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সামনে তাঁর আচরণের ফলে করণীয় আর কিছুই ছিল না। বোর্ড তাঁকে তিন ম্যাচের জন্য বহিষ্কার করে নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছে। তারা অন্তত এটা প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে, এই দেশে একজন ক্রিকেটারের চেয়ে ক্রিকেটটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সাকিব নিজে ভবিষ্যতের জন্য যে একটা বাজে উদাহরণ তৈরি করে গেলেন, বহিষ্কারাদেশে তাতে কি প্রলেপ দেওয়া সম্ভব?

মিরপুরের তৃতীয় ওয়ানডের আগে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বাইরের বিভিন্ন জটলা থেকে বারবার কানে আসছিল একটি শব্দই—সাকিব কী করল? সবারই একই আলোচনা। আলাপগুলো থেকে একটা জিনিসই বেরিয়ে আসছিল, প্রিয় সাকিবের এই আচরণে সচেতন দর্শকেরা প্রায় সবাই ক্ষুব্ধ।

কথা হচ্ছিল নুরুল হাসান নামের এক দর্শকের সঙ্গে। একটি বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন। বাংলাদেশের খেলাগুলো সাধারণত মাঠে বসে দেখার সুযোগ হাতছাড়া করেন না। সপ্তম শ্রেণীতে পড়া ছেলেকে নিয়ে তিনি খেলা দেখতে এসেছেন সেই এলিফ্যান্ট রোড থেকে। সাকিবের বহিষ্কারাদেশের ব্যাপারে তাঁর মন্তব্য, ‘বোর্ড ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একজন খেলোয়াড়, সে যত বড়ই হোক, অন্যায় আচরণ করলে তাঁকে ক্ষমা করা উচিত নয়।’

নুরুল হাসান বলেন, ‘গত ম্যাচটা বাসায় বসে টেলিভিশনে দেখেছি। সাকিবের অঙ্গভঙ্গি ছিল খুবই অশোভন। আমি হঠাত্ করে সাকিবকে এমন আচরণ করতে দেখে অসম্ভব অবাক হয়েছি। নিজের ক্ষোভটাও প্রকাশ করতে পারছিলাম না। কারণ, পাশে বসে ছেলে খেলা দেখছিল। সাকিবকে তো বাচ্চারা প্রচণ্ড ফলো করে। তাঁর এই ব্যাপারগুলো ভেবে দেখা উচিত।’

সেনপাড়া-পর্বতা থেকে আজকের খেলা দেখতে আসা দুই কিশোর অবশ্য কিছুটা ক্ষোভই প্রকাশ করল সাকিবের বহিষ্কারাদেশ নিয়েই। বোঝা গেল, সাকিব কী আচরণ করেছেন, সেটা তারা জানে না। এই প্রতিবেদক সংগত কারণেই সাকিবের সেই আচরণটির বিশদ বর্ণনায় আর যাননি।

সাকিবের ভক্তকুলের মধ্যে আছেন অসংখ্য ক্রিকেটপ্রিয় নারী। সাকিব গত বৃহস্পতিবার যে আচরণ করেছেন, স্বাভাবিক কারণেই সে সম্পর্কে কোনো নারী দর্শককে জিজ্ঞেস করা শোভন নয়। তবে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেক নারীই সাকিবের এই আচরণে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে চলেছেন, তাঁদের বক্তব্যের সারবত্তা, ‘সাকিব দর্শকদের অপমান করেছেন।’

ফেসবুকেই নিজেদের স্ট্যাটাসে অনেকেই প্রমাদ গুনেছেন, ১৮ বছরের নিচে যেসব ছেলেমেয়েরা সাকিবের খেলা দেখতে টেলিভিশনের সামনে বসে, এখন থেকে তাদের ‘প্যারেন্টাল গাইডেন্সে’র দরকার হবে কি না! খুবই যুক্তিসংগত প্রশ্ন।

মিরপুর স্টেডিয়ামের বাইরেই আজ কথা হলো, ইকরাম ইরতেজা নামের এক তরুণের। রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। তিনি সাকিবকে শচীন টেন্ডুলকারের জীবনী বেশি করে পড়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ইরতেজার বক্তব্যটা খুব সহজ, ‘টেন্ডুলকার এত বড় ক্রিকেটার। ২৪ বছর ধরে বিশ্ব ক্রিকেট শাসন করেছেন। তাঁর আচরণ নিয়ে একদিনের জন্য কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। বড় হতে গেলে ছোট হতে হবে। আর ছোট হওয়া মানেই বিনয়ী হওয়া। সাকিবকে টেন্ডুলকারের মতোই বিনয়ী হতে হবে।’

টেন্ডুলকারের মাপের ক্রিকেটার হওয়া হয়তো কঠিন। কিন্তু টেন্ডুলকারের কাছাকাছি বিনয়ী তো হওয়াই যায়!  
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment