
বিয়ের পর কয়েক বছর তাদের সুখের সংসার ঠিকঠাক চলছিল। হঠাৎ করে কয়েক মাস ধরে নার্গিস আক্তার তার স্বামী ওমর ফারুককে এড়িয়ে চলা শুরু করেন। স্বামীর কোনো কথা-বার্তা শুনতেন না।
তাই ওমর ফারুক স্ত্রীকে সন্দেহের চোখে দেখতেন। একমাস আগে স্বামীর অমতে স্ত্রী নার্গিস আক্তার বাবার বাড়ি চলে যান। গতকাল শনিবার বিকেলে ওমর ফারুক বউকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য শ্বশুড় বাড়ি দাউদকান্দি উপজেলার দোনাচর গ্রামে যান।
শ্বশুড় বাড়ি থেকে বউকে নিয়ে আসার জন্য কথা বললে সে যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। পরে রাতেই ওমর ফারুক নিজের বাড়িতে চলে আসেন। স্ত্রী নার্গিস আক্তার বাবার বাড়ি থেকে না আসায় রাতেই ঘরের খুঁটির সাথে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন ফারুক।
রোববার সকালে ঘুম থেকে উঠে তার বাবা নাছির উদ্দিন ছেলের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিত্কার দিয়ে জ্ঞান হারান। পরে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে স্থানীয় গৌরীপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্বজনরা পুলিশকে খবর দেয়। গৌরীপুর ফাঁড়ির পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
নিহতের বাবা নাছির উদ্দিন একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। একটু ধাতস্থ হয়ে জানালেন, সুন্দরী মাইয়ারে বিয়া করাইয়া আমার সোনার টুকরা ছেলেডারে হারাইলাম।
'আমাগো সন্দেহ বউয়ের অন্য পোলার সঙ্গে পরকীয়া আছে। সহজ সরল ছেলে ওমর ফারুক শ্বশুড় বাড়ি থেকে বউ আনতে যায়। বউ সাফ জানায় আর আসবে না। বউ না আসায় ছেলে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হইছে। আইনের মাধ্যমে আমার ছেলে আত্মহত্যার রহস্য উদঘাটন করে এর বিচার চাই', বললেন ছেলের মৃত্যুশোকে কাতর পিতা।
দাউদকান্দি-গৌরীপুর ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর আত্মহত্যার সঙ্গে স্ত্রীর কোনো সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
0 comments:
Post a Comment