ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, আসন্ন রাজ্যসভার অধিবেশনে বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তি অনুমোদনের জন্য সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভারতে সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আজ শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবনে সাক্ষাত্ করলে মনমোহন এ কথা বলেন। খবর বাসসের।
১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১১ সালে বাংলাদেশ সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেন। রাজ্যসভার গত অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করা হলেও পাস হয়নি।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বাসসকে জানান, এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও যোগাযোগ বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রসারে গুরুত্ব দিয়েছেন।
সাক্ষাত্কালে তোফায়েল আহমেদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন। জবাবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে জয়লাভ এবং আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ায় শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
পরে তোফায়েল আহমেদ ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী আনন্দ শর্মার সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই মন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে অভিন্ন মত ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়ার্কিং গ্রুপকে আরও কার্যকর করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্যা সমাধানের কথা বলা হয়।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ভারত তামাক ও অ্যালকোহল বাদে বাংলাদেশে উত্পাদিত সব পণ্যের শুক্লমুক্ত প্রবেশাধিকার দিয়েছে। কিন্তু শুল্ক-বহির্ভূত বিভিন্ন বাধার কারণে বাংলাদেশ এই সুযোগ নিতে পারছে না। বিশেষ করে বাংলাদেশের বিএসটিআই পণ্যের মান যাচাইয়ের যে সার্টিফিকেট দেয়, ভারত তা গ্রহণ করে না। ফলে ভারতে পণ্য রপ্তানিতে সমস্যা হচ্ছে। এই বিষয়টি তিনি ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। আনন্দ শর্মা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের বিএসটিআইকে আরও আধুনিক করার ব্যাপারে সব প্রকার সহযোগিতা দেবে।
আলোচনায় তোফায়েল আহমেদ বর্ডার হাটের সংখ্যা দুই থেকে বাড়িয়ে চারটি করার প্রস্তাব দিলে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী তাতে ইতিবাচক সাড়া দেন।
ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার তারেক এ করিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সার্ক বিজনেস লিডার্স কনক্লেভে অংশগ্রহণ করার জন্যে নয়াদিল্লি সফরে রয়েছেন তোফায়েল আহমেদ।
কনক্লেভে যোগ দেওয়া ছাড়াও তিনি গতকাল শুক্রবার ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা শিব শংকর মেননের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। তিনি ভারতের প্রথিতযশা সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

0 comments:
Post a Comment