Sporty Magazine official website |

জিয়া খানের মৃত্যু-রহস্য উদঘাটনে এফবিআই!

Wednesday, January 29, 2014

Share this history on :
বলিউডের অভিনেত্রী জিয়া খানের মৃত্যু-রহস্য নিয়ে এখন পর্যন্ত জল কম ঘোলা হয়নি। এবার ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে জিয়া খানের মৃত্যু-রহস্য উদঘাটনে যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধ তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (এফবিআই) সম্পৃক্ত করার অনুমতি চেয়েছে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন কনস্যুলেট।

জিয়া খান জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক। দেশটির পাসপোর্টও রয়েছে তাঁর। এ বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে জিয়া খানের মৃত্যু-রহস্য উদঘাটনে এফবিআইকে সম্পৃক্ত করার অনুরোধ জানিয়ে গত অক্টোবরে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যান্সি জে পাওয়েল বরাবর একটি চিঠি লিখেছিলেন জিয়া খানের মা রাবেয়া আমিন। রাবেয়ার নিজেরও মার্কিন নাগরিকত্ব রয়েছে।

সম্প্রতি রাবেয়ার আবেদনটি মুম্বাইয়ের আমেরিকান সিটিজেন সার্ভিসেস ইউনিটের প্রধান রোজমেরি ম্যাক্রে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছে দিয়েছেন। জিয়ার মৃত্যু-রহস্য উদঘাটনে নতুন করে তদন্ত শুরুর পাশাপাশি তদন্তকাজে সাহায্য করার জন্য এফবিআইকে সম্পৃক্ত করার অনুমতিও চাওয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর আর পাতিলের কাছে। এক খবরে এ তথ্য জানিয়েছে মিড-ডে ডটকম।জিয়া খানের সঙ্গে তাঁর মা রাবেয়া আমিন

রাবেয়া ও তাঁর আইনজীবী দীনেশ তিওয়ারিকে ২৭ জানুয়ারি সোমবার বান্দ্রা-কারলা কমপ্লেক্সে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেট অফিসে ডেকে নিয়ে বিষয়টি অবহিত করা হয়। এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন রাবেয়া আমিন। এ প্রসঙ্গে তাঁর ভাষ্য, ‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষ রাজি হয়ে গেলেই তদন্তকাজে সহায়তা দেবে এফবিআই।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন করে তদন্তকাজ শুরুর জন্য আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উচ্চ আদালতে আবেদন করব আমি।’

এদিকে চলতি জানুয়ারি মাসে আন্ধেরি আদালতে ৪৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করেছে মুম্বাই পুলিশ। জিয়ার আত্মহত্যায় তাঁর প্রেমিক সুরজের প্ররোচনার কথা উল্লেখ থাকলেও হত্যাকাণ্ডের কোনো রকম আলামত পাওয়া যায়নি বলেই জানানো হয়েছে এই চার্জশিটে।
চার্জশিট সম্পর্কে রাবেয়ার আইনজীবী দীনেশ তিওয়ারি মন্তব্য করেছেন, ‘এই মামলার সাক্ষীরা শুরুর দিকে পুলিশের কাছে যে ধরনের জবানবন্দি দিয়েছিলেন, চার্জশিটে তা পুরোপুরি পাল্টে ফেলা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলামতও বদলে ফেলা হয়েছে। এমন আরও অনেক শক্ত কারণ আছে, যার জন্য জিয়ার মৃত্যু-রহস্য উদঘাটনে এফবিআইয়ের সম্পৃক্ততা কামনা করছি আমরা। এই কাজে সহায়তা দিতে রাজি আছে এফবিআই। আমাদের প্রত্যাশা, যথাযথ কর্তৃপক্ষ নতুন করে তদন্ত শুরুর পাশাপাশি তদন্তকাজে এফবিআইয়ের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে।’

জিয়া খানএদিকে ওই চার্জশিট মেনে নিতে পারেননি রাবেয়া আমিন। তিনি দাবি করেছেন, ‘যে ঘর থেকে জিয়ার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, তার পাশের ঘরে জমাট বাঁধা রক্ত খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। দুটি ভিন্ন ঘরে জিয়ার রক্ত কীভাবে পাওয়া গেল তার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি এই চার্জশিটে। এ ছাড়া জিয়ার মৃত্যুর পরপরই পুলিশ যে ছবি তুলেছিল তাতে স্পষ্ট দেখা গেছে, জিয়ার ঠোঁটে ও হাতের কবজিতে আঘাতের চিহ্ন আছে। এই আঘাতের চিহ্ন কোথা থেকে এল সেটা খুঁজে বের করতেও ব্যর্থ হয়েছে পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, জিয়ার গলায় যে ধরনের দাগ দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যাকারীর গলার দাগের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এরও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি চার্জশিটে।’

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩ জুন মুম্বাইয়ের জুহুতে নিজ বাসা থেকে জিয়া খানের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। জিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় তাঁর প্রেমিক সুরজ পাঞ্চোলিকে গ্রেপ্তার করে মুম্বাই পুলিশ। অল্প কয়েক দিন জেলের চার দেয়ালে বন্দী থাকার পর জামিনে মুক্তি পান বলিউডের প্রভাবশালী ও বিতর্কিত অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সুরজ।

পরবর্তী সময়ে গত ১ অক্টোবর জিয়ার মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে বোম্বের উচ্চ আদালতে মামলা ঠুকে দেন রাবেয়া। জিয়াকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পুলিশের তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ও একপেশে উল্লেখ করে রাবেয়া বলেন, প্রভাব খাটিয়ে সুরজের পক্ষে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করানো হয়েছে। এ জন্য ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (সিবিআই) অন্তর্ভুক্ত করে পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্ত শুরুর আবেদন জানান তিনি।

জিয়া খানের মৃত্যু যে আত্মহত্যা নয়, তার সম্ভাব্য ১০টি কারণও উল্লেখ করেন অভিনেত্রী রাবেয়া আমিন। প্রথমত, কেউ গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করলে সাধারণত তার জিহ্বা বের হয়ে আসে। কিন্তু জিয়ার ক্ষেত্রে তেমনটা ঘটেনি। দ্বিতীয়ত, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করলে মৃত ব্যক্তির গলায় যে ধরনের দাগ দেখা যায়, জিয়ার গলায় তেমন দাগ দেখা যায়নি। তৃতীয়ত, এ ধরনের মৃত্যুতে সাধারণত মৃত ব্যক্তির মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু জিয়ার ক্ষেত্রে তেমনটা পাওয়া যায়নি।

চতুর্থ কারণ হিসেবে রাবেয়া উল্লেখ করেন, মৃত্যুর পর জিয়ার ঠোঁটের ডান পাশে ও বাম হাতের কবজিতে আঘাতের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়। পরের কারণটি আরও ভয়াবহ। যে ঘর থেকে জিয়ার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, তার পাশের ঘরে জমাট বাঁধা রক্ত খুঁজে পেয়েছিলেন বলে দাবি করেন রাবেয়া। ওই জমাট বাঁধা রক্ত সংরক্ষণ করা আছে বলেও জানান তিনি।

ষষ্ঠ কারণ হিসেবে রাবেয়া উল্লেখ করেন, গলায় পাতলা মসলিন কাপড়ের ওড়না পেঁচিয়ে জিয়া আত্মহত্যা করেছে বলা হলেও, তাঁর গলার দাগের গভীরতা অনেক বেশি। মসলিন কাপড়ের মতো পাতলা কোনো বস্তু কোনোভাবেই এমন গভীর দাগ সৃষ্টি করতে পারে না। রাবেয়া আরও দাবি করেন, টুল বা চৌকির ওপর না দাঁড়িয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগানো সম্ভব নয়। কিন্তু সিলিং ফ্যান ছোঁয়ার জন্য দাঁড়ানোর মতো কোনো বস্তুই নেই তাঁদের বাসায়।

অষ্টম কারণ হিসেবে রাবেয়া জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, মৃত্যুর কয়েক মিনিট আগে বাসায় ঢোকার সময় জিয়ার পরনে ছিল ট্র্যাকস্যুট। কিন্তু রাতের পোশাক পরা অবস্থায় তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। আত্মহত্যার আগ মুহূর্তে কেউ পোশাক পরিবর্তন করবে, এটা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। রাবেয়া আরও দাবি করেন, তিনি জিয়ার মৃত্যুর সব আলামত তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করলেও তা যাচাইয়ে কোনো রকম গুরুত্বই দেওয়া হয়নি।

সব শেষ কারণ হিসেবে রাবেয়া উল্লেখ করেন, অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের দ্বিতীয় তলায় তাঁদের ফ্ল্যাট। হত্যাকারীরা বেডরুমের জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে থাকতে পারে। কারণ, অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের প্রবেশপথের ওপরই একটি কার্নিশ আছে। সেই কার্নিশ বেয়ে খুব সহজেই জানালা দিয়ে ঘরের ভেতর প্রবেশ করা সম্ভব।

Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment