
‘সেই তুমি এলে, অবশেষে!’ সোনা রঙের আভা ছড়ানো ট্রফিটার দিকে এক ঝলক যেভাবে তাকালেন, সেই দৃষ্টি আসলে প্রেমিকার দিকে প্রেমিকের অভিমানাহত চাহনি। দীর্ঘ বিরহের পর প্রেয়সীকে আবার নিজের আলিঙ্গনে ফিরে পাওয়ার অশ্রুসিক্ত আবেগ। কান্না তাই লুকোতে পারলেন না কিছুতেই। হু হু করে কেঁদে দিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
মঞ্চে সত্যিই অচেনা দেখাচ্ছিল তাঁকে। এ কোন রোনালদো! যে রোনালদোকে সবাই শক্ত হূদয়ের বলেই জানে। যে রোনালদোকে অনেকেই ভাবে অহংকারী, একরোখা! চার বছর পর আবার ব্যালন ডি’অর ট্রফিটা হাতে তুলে নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, কত গভীরভাবেই না এই ট্রফিটার প্রার্থনা করে এসেছেন এই কটা বছর! প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়েও বারবার থমকে যেতে হলো আবেগের জলোচ্ছ্বাস হয়ে ভেতর থেকে উঠে আসা কান্নার দমকে।
রোনালদোর কান্না ছুঁয়ে গেল দর্শকসারিতে বসে থাকা প্রেমিকা ইরিনা শায়াককে। সবচেয়ে বেশি কাঁদলেন আসলে মারিয়া দলোরেস। ছেলের কান্না মাকে ছুঁয়ে যাবে, এটাই তো স্বাভাবিক।
রোনালদোকে এতটা আবেগী হয়ে পড়তে আসলে আগে কখনো দেখা যায়নি। এই আবেগ দেখে হয়তো সত্যিই ভেতরে ভেতরে অনুতাপে পুড়লেন রোনালদোর থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ফিফা সভাপতি সেপ ব্ল্যাটারও, যিনি কদিন আগে রোনালদোকে ‘কমান্ডার’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
পরে রোনালদো স্বীকার করেছেন, ‘পুরস্কার নিতে গিয়ে বুঝতে পারিনি কেঁদে ফেলব। আমি অত কাঁদি না। আসলে কাল যেমন কাঁদলাম, এতটা কান্না প্রথম প্রেমে ব্যর্থ হয়েও কাঁদিনি।’
অসাধারণ টানা তিনটি মৌসুম গেছে তাঁর। ক্লাবের হয়ে আগের তিন মৌসুমেই গোলের ফিফটি করেছেন। ৫৩, ৬০, ৫৫—এই হলো গত তিন মৌসুমে রিয়ালের জার্সি গায়ে তাঁর গোলের হিসাব। কিন্তু প্রতিবারই একজনের দ্যুতিতে ম্লান হয়ে গেছেন। সেই তিনি যে আলো ছড়িয়েছেন তাঁর চেয়েও বেশি। কাল কিন্তু সেই লিওনেল মেসিকে দর্শকসারিতে সাক্ষী রেখেই আলো কেড়ে নিলেন রোনালদো। পরে মেসিও স্বীকার করলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো যোগ্য হিসেবেই জিতেছে এই ট্রফি।’
তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রোনালদো বলেছেন, ‘সবাইকে ধন্যবাদ, আমার সতীর্থ, জাতীয় দল, আমার পরিবার, এখানে যাঁরা এসেছেন, প্রত্যেককে। আমি আসলে কথা বলতে পারছি না।’ ওইটুকুতেই পুরো হলে তুমুল করতালির বৃষ্টি। যেন সবাই বুঝিয়ে দিতে চাইল, ‘তুমি আজ কিছু না বললেও চলবে। তোমার না-বলা প্রতিটা শব্দ আমরা জানি।’
পুরস্কার নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কিন্তু আবার ফিরে এসেছিলেন সেই রোনালদো। যে রোনালদো নিজের সামর্থ্যে প্রবল আত্মবিশ্বাসী। প্রতিপক্ষদের আবারও হুঁশিয়ার করে বললেন, পরের বছরই তিনটি তাঁর চাই-ই চাই, ‘আমি নিজের সেরাটাই নিংড়ে দেব। বরাবর তা-ই করি। আশা করি পরেরবার এখানে আবার ফিরে আসব আমার ক্যারিয়ারের তিন নম্বর ব্যালন ডি’অরটি জেতার জন্য।’
রোনালদোর সেই আবেগঘন মুহূর্তটি দেখুন:
0 comments:
Post a Comment