Sporty Magazine official website |

ক্ষোভে ফুঁসছে বাংলার ক্রিকেটপ্রেমীরা

Wednesday, January 22, 2014

Share this history on :
টেস্ট মর্যাদা থাকার পরও ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির তিন ‘শক্তিধর’ দেশের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী বাংলাদেশের টেস্ট খেলা হুমকির মুখে। টেস্ট ক্রিকেটকে ‘আকর্ষণীয়’ করার অভিপ্রায়ে ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার প্রস্তাবিত দ্বি-স্তরবিশিষ্ট টেস্ট ক্রিকেটে র‌্যাঙ্কিংয়ের ৯ ও ১০ নম্বর দলকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে খেলার ‘আশঙ্কা’ নিয়ে তোড়পাড় এখন দেশের ক্রিকেট।
ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ যখন ধীরে ধীরে একটা শক্তিশালী জায়গা করে নিচ্ছে, ঠিক তখনই সংস্কারের নামে ক্রিকেটের তিন ‘মোড়লে’র এই অদ্ভুত প্রস্তাব বাংলাদেশের ক্রিকেটকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে বলেই অভিমত সবার। ব্যাপারটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একান্ত দুশ্চিন্তার বিষয় হলেও ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের এই তুঘলকি প্রস্তাব নিয়ে সমালোচনায় মুখর গোটা ক্রিকেট বিশ্বই। দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। নিউজিল্যান্ড কোনো এক অদ্ভুত কারণে তিন মোড়লের প্রস্তাবকে সমর্থন জানালেও বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা গভীর উত্কণ্ঠা নিয়ে এখন অপেক্ষায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থান সম্পর্কে। টেস্ট ক্রিকেটের নবীনতম দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ক্রিকেটকে ‘শেষ’ করে দেওয়ার এই প্রস্তাবের বিপক্ষে কতটা ‘উচ্চকণ্ঠ’ হতে পারবে, উত্কণ্ঠার কারণ মূলত এটাই।
আজ বুধবার ‘প্রথম আলো’র খেলার পাতায় ‘টেস্টই খেলতে পারবে না বাংলাদেশ’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের উত্কণ্ঠার মাত্রা আরও বেড়েছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী টেস্ট ক্রিকেটের নবীনতম দেশ বাংলাদেশকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলতে বাধ্য করা হবে, এই আশঙ্কার মুখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন এদেশের ক্রিকেটানুরাগী সাধারণ মানুষ। ক্রিকেটপাগল মানুষ আজ ‘প্রথম আলো’র ওয়েবসাইটে সারা দিন সংবাদটির নিচে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করে এর প্রতিবাদ জানিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা তাদের মন্তব্যে কোনো চাপের মুখে নতিস্বীকার না করে বিসিবিকে এই অদ্ভুতুড়ে প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে এ দেশের মানুষ কতটা সচেতন, ক্রিকেট যে এদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রস্থল, সংবাদটির নিচে পাঠকদের মন্তব্যগুলো সে ব্যাপারটিরই প্রতিফলন বলে প্রতীয়মান হয়।
অজস্র মন্তব্যের প্রায় প্রতিটিতেই রয়েছে বিসিবির কাছে এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানের আকুতি। রানা নামের একজন পাঠক লিখেছেন, ‘আমাদের বিসিবি এখনো প্রস্তাবটি বিস্তারিত পড়েনি, তবে কবে পড়বে?’ তিনি লিখেছেন, ‘আমি ভাবতেই পারছি না, এ ধরনের প্রস্তাব এদের মাথায় আসে কীভাবে? এটা প্রস্তাব, না মামার বাড়ির আবদার!’
এম এ মান্নান প্রস্তাব দিয়েছেন, এই তিন দেশের বাইরে গিয়ে বাকি দেশগুলোর আলাদা ক্রিকেট জোট তৈরি করার। তিনি লিখেছেন, ‘ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে বয়কট করে বাকি সাতটি দেশ নিজেদের মধ্যে এফটিপি তৈরি করে খেলুক।’ অনেকেই একই মত দিয়ে বলেছেন, এমন কিছু করতে পারলে তিনটি দেশের অর্থ আর ক্ষমতার বড়াই বন্ধ হয়ে যাবে।
পাঠকদের অনেকেই আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়া এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ব্যাপারে ভারত বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ায় বিসিবি এ ব্যাপারে বলিষ্ঠ সিদ্ধান্ত নিতে চাপে পড়ে যাবে। তাঁরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে দেশের ক্রিকেটের স্বার্থ অনুযায়ী এ ব্যাপারে কঠোর হওয়ারই অনুরোধ জানিয়েছেন।
সোহেল অবশ্য কিছুটা হতাশ হয়েই জানিয়েছেন নিজের অভিমত, তিনি আইসিসিকে একটি পক্ষপাতমূলক সংগঠন হিসেবে অভিহিত করে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যেহেতু আইসিসির আয়ের সিংহভাগ ভারত ও অস্ট্রেলিয়া থেকে আসে, তাই এবারও এরা যা চাইবে, আইসিসি সেভাবেই সিদ্ধান্ত নেবে।
কাজী মহিউল ইসলাম প্রশ্ন করেছেন, যে দেশের মানুষ তিন দিন লাইনে ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে টিকিট কিনে ক্রিকেট খেলা দেখে, সে দেশের মানুষ ক্রিকেট খেলার অধিকার হারাবে! তিনি কিছুটা আবেগী হয়েই এই অন্যায় প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment