Sporty Magazine official website |

ব্যাটিংয়ে হাহাকার, বোলিংয়েও!

Monday, January 27, 2014

Share this history on :
মুশফিক-সাকিব দুজনই ফিফটি পেলেন, লড়াই করলেন, কিন্তু লড়াইকে দীর্ঘায়িত করতে পারলেন না। দলের বিপদে সোহাগ গাজীও লড়লেন, ৪২ রান করে দলের সংগ্রহকে স্ফীত করতে রাখলেন অবদান, কিন্তু তিনিও প্রত্যাশার সঙ্গে তাল মেলাতে পারলেন না। অভিষেকে শামসুর রহমান প্রতিশ্রুতি দিলেন ভালো করার, আক্রমণও শানালেন, কিন্তু টিকে থাকতে পারলেন না। মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনে টস হেরে ব্যাট করা বাংলাদেশের ইনিংসের গল্প অনেকটা এমনই। সবকিছুর যোগফল ব্যাটিং ব্যর্থতা আর টেস্ট ক্রিকেটের মেজাজের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারা।
টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যত্ প্রশ্নে আগামীকাল যখন শুরু হচ্ছে আইসিসির সভা, ঠিক তার আগের দিন প্রথম দিনের খেলা ২৬ ওভার বাকি থাকতেই ২৩২ রানে অলআউট হলো বাংলাদেশ। ব্যাটসম্যানদের বাড়াবাড়ি রকমের শট খেলার প্রবণতা দেখে মনে হলো, কয়দিন পর থেকে শুধু ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিই যখন খেলতে হবে, টেস্টের ব্যাটিং করে আর কী লাভ!
তামিম ইকবাল আর শামসুর রহমানের উদ্বোধনী জুটি অবশ্য ভালো কিছুরই ইঙ্গিতই দিচ্ছিল। কিন্তু তাড়াহুড়োর শট খেলে তামিম ইকবালের ফেরাটাই যেন বাঁধের মুখ আলগা করে দিল। একে একে ফিরে গেলেন মার্শাল আইয়ুব আর শামসুর। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ খেলে টেস্ট দলে নিজের জায়গা মজবুত করে ফেলা মুমিনুল হকও ব্যর্থতার পথেই হাঁটলেন। প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তির মেলবন্ধন ঘটল না দেশের টেস্ট মর্যাদা নিয়ে উত্কট উত্কণ্ঠায় থাকা ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের। লাঞ্চের আগেই বাংলাদেশ ৪ উইকেটে ৭২। মাত্র ২৪ রানের ব্যবধানে বাংলাদেশ হারিয়েছে প্রথম চার ব্যাটসম্যানকে।
পঞ্চম উইকেট জুটিতে সাকিব আল হাসান আর মুশফিকুর রহিমের ওই ৮৬ রানের জুটিই আজকের দিনে বাংলাদেশের সেরা প্রাপ্তি। ঠিক ওই সময়ই গোটা দিনের মধ্যে শ্রীলঙ্কাকে কিছুটা চাপের মধ্যে ফেলা গিয়েছিল। ৯১ বলে ৯টি চারে ৫৫ রান করা সাকিব যদি আর কিছু সময় উইকেটে থাকতেন, তাহলে গল্পটা কিন্তু অন্যভাবেই বলা যেত। সাকিবের বিদায়ের পর নাসিরের শুরুটা প্রত্যয় জাগানিয়া হলেও তিনি নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি।
সোহাগ গাজীকে সঙ্গে নিয়ে মুশফিক অধিনায়কোচিত লড়াইই লড়েছেন। সপ্তম উইকেটে ৫৩ রানের জুটি। পুরো ইনিংসে ফিফটি পার্টনারশিপ মাত্র দুটোই। কিন্তু সাকিব-মুশফিক জুটির মতো মুশফিক-সোহাগ জুটির পরিণতিটাও হলো লড়াইটাকে একটা পর্যায়ে নিতে যেতে না পারার ব্যর্থতার। শেষের দিকে রবিউল, রুবেল আর আল-আমিনের কাছে প্রত্যাশা ছিল না কারোরই। সে কারণেই কিনা, দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাওয়ার তাগিদটা তাঁরা কেউই অনুভব করতে পারলেন না।
গোটা ইনিংসটাই যেন অতৃপ্তির হাহাকার রেখে গেল বড় করুণভাবেই।
দিন শেষে শ্রীলঙ্কা বিনা উইকেটে ৬০। ব্যাটিংয়ের হাহাকার যেন সংক্রমিত হলো বোলিংয়েও!
সংক্ষিপ্ত স্কোর (প্রথম দিন শেষে)
বাংলাদেশ৬৩.৫ ওভারে ২৩২/১০ (তামিম ৬, শামসুর ৩৩, মার্শাল ১, মুমিনুল ৮, সাকিব ৫৫, মুশফিক ৬১, নাসির ৪, সোহাগ ৪২, রবিউল ৫, রুবেল ২, আল-আমিন ৬*; লাকমল ৩/৬৬, এরাঙ্গা ৪/৪৯, হেরাথ ২/৫০, ম্যাথুস ১/১৮)।
শ্রীলঙ্কা: ১৯ ওভারে ৬০/০ (সিলভা ৩০, করুনারত্নে ২৮; রবিউল ০/১২, আল-আমিন ০/১৮, রুবেল ০/২০, সোহাগ ০/৮, সাকিব ০/২)।
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment