
ঢাকা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সকল বাধা-বিপত্তি ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৪০ ভাগ ভোটার তাদের ভোট দিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্য ছিল অসাংবিধানিক প্রক্রিয়া যাতে ফিরে আসে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার প্রতি তাদের অবস্থা গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেখিয়ে দিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ‘অশান্তি বেগম’ আখ্যায়িত তিনি বলেন, ‘উনার আন্দোলনের মানে কী? উনি জনগণকে ডাক দেন, জনগণ সাড়া দেয় না। উনার আন্দোলন হলো গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করা।’
হরতাল-অবরোধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাসায় বসে মুরগির স্যুপ খেয়ে হরতাল করা যায় না, সেটা প্রমাণিত হয়েছে। এ সব বন্ধ করুন, না হলে হরতাল-অবরোধ কিভাবে বন্ধ করতে হয় তা আওয়ামী লীগের জানা আছে।’
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছেন, এখন আর মানুষকে যন্ত্রণা দেবেন না। যদি কোনো সমস্যা মনে হয়, তাহলে আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করা যেতে পারে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘উনি ২০০৬ বলেছিলেন- আওয়ামী লীগ একশ’ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না, আমি নাকি বিরোধীদলীয় নেতাও হতে পারবো না। উনি যা বলেন, তা উনার দিকে ফিরে যায়। উনার অভিশাপ আমাদের জন্য আশির্বাদ হয়ে আসে।’
হরতাল-অবরোধে ক্ষান্ত দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক খেলা খেলেছেন, এবার ক্ষান্ত দেন। নইলে দেশের মানুষের জান মাল রক্ষায় যতো কঠোর হওয়া প্রয়োজন ততো কঠোর হবো।’
সব ধরনের বাধা-বিপত্তি ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে গত নির্বাচনে ভোট দেয়া ৪০ শতাংশ মানুষ, অংশগ্রহণ করা ১২টি দল (নিবন্ধিত ৪০টি) এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়ায় নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ সভাপতি দাবি করেন, ‘বিএনপি নেত্রীর পরামর্শে আমাদের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান সার্চ কমিটির মাধ্যমে এই নির্বাচন কমিশন গঠন করেছিলেন।’
জনগণের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। ২০২১ সালে মধ্যআয়ের দেশে উন্নীত করা হবে এবং বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করা হবে এবং তাদের রায়ও কার্যকর করা হবে। বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করা হবে।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হলেও ইয়াহিয়া সরকার গঠন করতে দেয়নি। পরে তিনি অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন এবং জনগণ তা সমর্থন করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতা ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু।
0 comments:
Post a Comment