
প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার গণভবনে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, এইচ টি ইমাম, মহীউদ্দীন খান আলমগীর, মসিউর রহমান, গওহর রিজভী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী প্রমুখ। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ ভোট দিয়েছে তাতেই আমি সন্তুষ্ট। যতটুকু দিয়েছে ততটুকুই যথেষ্ট। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে, আমরা কাজ করে যাব। উজানে নাও ঠেলে যাওয়াই তো আমাদের কাজ। আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমি স্পষ্ট করে ঘোষণা করছি, আমার নির্বাচিত সরকারের প্রথম কাজ হবে যে কোনো মূল্যে দেশের জনগণের জানমাল এবং রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করা।
মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচন সম্পর্কে আলোচনা করেই সমাধান করা হবে। সেজন্য সকলকে ধৈর্য ধরতে হবে, সহনশীল হতে হবে এবং সকল প্রকার রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে গণতন্ত্র বজায় রাখার স্বার্থে আমরা বারবার আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছি। এখনো তা অব্যাহত আছে। এখন তাদের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, আমি ওনাকে (খালেদা জিয়া) ডেকেছি, উনি আসেননি। এখন তো আর বিরোধী দলীয় নেত্রীও থাকতে পারবেন না। ফলে তিনি তো একূল ওকূল দুকূল হারিয়ে বসে আছেন।
তিনি বলেন, যতক্ষণ জঙ্গিবাদী জামায়াত তাদের ঘাড়ে চেপে থাকবে ততক্ষণ তারা সুষ্ঠু চিন্তা করবে পারবে না। আগে তাদের সঙ্গ ছাড়তে হবে। তাহলে আলোচনার একটা সুষ্ঠু পরিবেশ হতে পারে। এ সময় জামায়াতের সঙ্গ ছেড়ে আসার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমি বিরোধীদলীয় নেত্রীর প্রতি আহ্বান জানাই-যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গিবাদী জামায়াত ছেড়ে আলোচনায় আসুন।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে। কোনো অভিযোগ উঠতে পারে এটা আমি বিশ্বাস করি না। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। জামায়াত-শিবির নির্বাচন বানচাল করতে চেয়েছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে নিষেধ করা হয়েছিল কেউ যাতে ভোট কেন্দ্রে না যায়, ভোট না দেয়। কিন্তু জনগণ জনগণ ওই অবস্থায় ভোট কেন্দ্রে এসেছে। সবকিছু উপেক্ষা করে ভোট দিয়েছে। এজন্য আমি তাদের অভিনন্দন জানাই। এ সময় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ও খোশমেজাজে ছিলেন। লিখিত বক্তব্যের শুরুতে তিনি পৌষের বিকেলে গণভবন চত্বরে সবাইকে অভিনন্দন জানান।
লিখিত বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, শত হুমকি ও বাধা উপেক্ষা করে এ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় ভোটারদের ধন্যবাদ জানাই। নির্বাচন কমিশন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, কর্মচারী, অত্যন্ত সাহসিকতার মাধ্যমে কাজ করায় সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনীকে ধন্যবাদ জানাই। আর নির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আহত সদস্যদের চিকিৎসা এবং নিহত ব্যক্তিদের বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।
নির্বাচনে অংশ নেয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সন্ত্রাস ও সহিংসতা মোকাবিলা করে নির্বাচন বানচালের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে দেশপ্রেমিক হিসেবে যে ভূমিকা রেখেছেন, সে জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করায় গণমাধ্যমকর্মীদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।
দেশ অশুভশক্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে : এ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ এক অশুভশক্তির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি যেকোনো মূল্যে রাষ্ট্রের জনগণের জান-মাল রক্ষায় প্রশাসনের সবস্তরকে আন্তরিকভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশ দিচ্ছি। এ ছাড়া ব্যবসায়ীরা যেন ব্যবসা নির্বিঘ্নে করতে পারেন, সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেব।
হাস্যোজ্জ্বল মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গতকাল দেশে বহুল আলোচিত ও প্রতীক্ষিত দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিরোধী দলের বাধা ও সহিংসতা সত্ত্বেও মানুষ ভোটে অংশ নিয়েছে। তাদের সব অপপ্রয়াস প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচনে আসায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ও সরকারি দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনসংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক ধারায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে শুকরিয়া আদায় করেন।
নতুন প্রজন্মের জন্য উপহার : প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু গণতন্ত্র নয়, এ নির্বাচন নতুন প্রজন্মের জন্য উপহার। এর মাধ্যমে লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত সোনার বাংলা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে এ নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারত। আমি বিরোধী দলকে নির্বাচনে আনতে অনেকবার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু তিনি না এসে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সবাই শান্তি চায়। কিন্তু বিরোধী দলের সহিংসতায় আজ নিরীহ নাগরিকদের রক্তে গণতন্ত্র আজ রক্তাক্ত। এ সময় ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে সব আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার অব্যাহত থাকবে : শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচার অব্যাহত থাকবে। জনগণ আমাদের পাশে আছে, থাকবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৪১ সালে হবে উন্নত দেশ। অর্থনৈতিক উন্নয়ন তারা বাধাগ্রস্ত করতে পারেনি।
এর আগে বিকাল ৪টায় গণভবনের একটি সম্মেলন কক্ষে বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রী।
0 comments:
Post a Comment