এম এ রহিম, বেনাপোল
নির্বাচনের ফল বাতিলের দাবিতে বিএনপি-জামায়াতসহ ১৮ দলের ডাকা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিনেই স্থবির হয়ে পড়েছে স্থলবন্দর বেনাপোল। এবন্দর দিয়ে গতকাল সোমবার সকাল থেকেই আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে সৃষ্টি হয় অচলাবস্থা। অপরদিকে ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে আসা আমদানিকৃত পণ্য পরিবহন রয়েছে বন্ধ। টানা কয়েক দফার হরতাল ও অবরোধে বন্দরে দীর্ঘ পণ্য ও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বাণিজ্যে পড়েছে বিরুপ প্রভাব। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। বেকার হয়ে পড়েছেন ১০ হাজার শ্রমিক। হ্যান্ডলিং শ্রমিকরা কাটাচ্ছেন মানবতার জীবনযাপন।
বেনাপোল স্থলবন্দর উপপরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল জানান, নির্বাচনের পূর্বে হরতাল-অবরোধের মধ্যেও বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানিবাহী ট্রাক আসা যাওয়া করেছে। গোডাউনে চলেছে পণ্য লোড -আনলোড। তবে নিরাপত্বার কারণে আমদানি পণ্য দেশের অভ্যন্ত পরিবহন হয়েছে কম। এর ফলে বন্দর ও টার্মিনালে পণ্য ও যানজট দিন দিন বেড়েই চলেছে। তবে সোমবার ঢিলেঢালাভাবে বন্দর গোডাউনে চলছে পণ্য খালাসের কাজ। বন্দর ব্যবহারকারীরা কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। দেশের শিল্প-কলকারখানা পড়ছে হুমকির মুখে। আমদানিকারকরা পণ্য আমদানি বাণিজ্যে আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানান সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী আলী কদর সাগর। বেনাপোল টান্সপোর্ট ব্যবসায়ী কামাল হোসেন ও হ্যান্ডলিং শ্রমিক নেতা রাসেদ আলী জানান, বেনাপোল বন্দরে আড়াই হাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিক, তিন হাজার সিএন্ডএফ কর্মচারী, দেড় হাজার টান্সপোর্ট কর্মচারীসহ বন্দর ব্যবহারকারী ১০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। বেকার হওয়ার পথে বেনাপোলের ২০ হাজার ব্যবসায়ীও। হরতালের কারণে অনেকের দিন কাটছে অর্ধাহার-অনাহারে। বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার পরিবহন চলাচল। বেনাপোল বন্দর, কাষ্টম ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাটছে অলস সময়।
ইমিগ্রেশন ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, বেনাপোল সীমান্ত চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন ও কাস্টম খোলা থাকলেও পাসপোর্ট যাত্রী চলাচল করছে কম।

0 comments:
Post a Comment