
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামভদ্র খানাবাড়ি গ্রামে সোহাগ মিয়া (১৪) নামের এক কর্মী চিকিত্সাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার ভোররাতে মারা গেছে বলে দাবি করেছে শিবির।
শিবিরের ভাষ্য, গত শনিবার যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয় সোহাগ। পুলিশ বলছে, এ বিষয়ে তারা কিছু জানে না।
উপজেলার রামভদ্র খানাবাড়ি গ্রামের শফিক কাজীর ছেলে সোহাগ। সে সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
সোহাগ মারা যাওয়ার বিষয়টি দাবি করেছেন গাইবান্ধা জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ফয়সাল কবীর।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক দাবি করেন, ‘এ বিষয়ে আমরা কিছু জানি না।’
গত শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশ হত্যা ও নাশকতা মামলার আসামি ধরতে উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের রামভদ্র খানাবাড়ি গ্রামে যায়। রাত পৌনে একটার দিকে পুলিশ ওই গ্রামের জামায়াতের স্থানীয় নেতা শাহাজাহান ওরফে ভূট্টু (৩৮), আল-আমিন (২২) ও মফিজুল হককে (৫৬) গ্রেপ্তার করে। থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা গ্রেপ্তার হওয়া লোকজনকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা রামভদ্র খানাবাড়ি কদমতলী মসজিদের মাইক থেকে ডাকাত পড়েছে বলে প্রচার করেন। এরপর জামায়াত-শিবিরের সহস্রাধিক কর্মী সংঘবদ্ধ হয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। তাঁরা চারদিক থেকে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
রাত দুইটার দিকে গাইবান্ধা ও রংপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি ঘটনাস্থলে আসে। তারা রামভদ্র খানাবাড়ি গ্রাম ঘিরে রেখে সহস্রাধিক ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে ২৪ জন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৪৫ জন আহত হন।
এ সময় জামায়াত-শিবিরের ২০ জন কর্মী গুলিবিদ্ধ হয় বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হাবিবুর (১৭), সোহাগ মিয়া (১৪), সাদ্দাম (১৬), আজাহার আলী (৪০), মমতাজ (৪০), আনছার আলী (৫০), নুর আলম (১৫) ও মোহাইমিন (১৮) সুন্দরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে গোপনে চিকিত্সা নেন। তাঁদের মধ্যে সোহাগ আজ ভোরে বগুড়ার একটি ক্লিনিকে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যায়।
0 comments:
Post a Comment