
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচন বানচাল করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক হয়েছে এবার ক্ষান্ত দেন। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে আসেননি। ভুল করেছেন। ভুলের খেসারত আপনাকেই দিতে হবে।’ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যত কঠোর হওয়া দরকার সরকার তত কঠোর হবে।
আজ শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। বক্তব্যের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময়কার বিভিন্ন কথা তিনি তুলে ধরেন। শেখ হাসিনা বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলবো। সোনার বাংলা করাই আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার। তবে তাঁর বক্তব্যের বেশিরভাগ অংশ জুড়েই ছিল বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা। হরতাল, অবরোধ ও সহিংসতা বন্ধের জন্য খালেদা জিয়ার প্রতি বারবার আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনে না আসার জন্য ধন্যবাদ
বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার জন্য দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একদিক দিয়ে ধন্যবাদ জানাই যে নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি। ফলে যুদ্ধাপরাধীদের দল নির্বাচনে আসেনি। দেশের মানুষ এই গ্লানি থেকে মুক্তি পেয়েছে।
ভোটারদের ধন্যবাদ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। এজন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিরোধী দল নির্বাচনে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সফল হয়নি।
১২ তারিখ সরকার গঠন
ভোট দেওয়ার জন্য দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, রাষ্ট্রপতি সরকার গঠন করতে আহ্বান করেছেন। ১২ তারিখে সরকার গঠন করব।
শক্ত হাতে সন্ত্রাসী কাজ বন্ধ করব:
বিএনপি নেতা খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে শেখ হাসিনা বলেন, অনেক হয়েছে এবার ক্ষান্ত দেন। বাংলাদেশের মানুষের ক্ষতি না করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বাংলাদশে এগিয়ে যাচ্ছে। আলোর পথে যাত্রা শুরু করেছে। উন্নতি অবশ্যই হবে। সঙ্গে রাজাকার আর যুদ্ধাপরাধী নিয়ে বিএনপির ক্ষমতা নেই যে সেটা বন্ধ করবে। তিনি বলেন,
মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যত কঠোর হওয়া দরকার সরকার তত কঠোর হবে। শক্ত হাতে সন্ত্রাসী কাজ বন্ধ করা হবে। শেখ হাসিনা বলেন, লাদেনের মত ভিডিও বার্তা দিয়ে আন্দোলনে নেমে দেশের মানুষকে কষ্ট যেন তিনি না দেন সেটাই তাঁর কাছে অনুরোধ। কেউ যদি স্বাভাবিক জীবনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তাহলে আমরা তা প্রতিহত করব। শক্ত হাতে সন্ত্রাসী কাজ বন্ধ করা হবে।
জবাব দিতে হবে সংখ্যালঘুদের কেন হত্যা করা হচ্ছে
খালেদা জিয়ার প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের মানুষ আর কত ধ্বংসযজ্ঞ সহ্য করবে? তিনি বলেন, জবাব দিতে হবে কেন সংখ্যালঘুদের হত্যা করা হচ্ছে? ২০০১ সালের নির্বাচনের পরেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, মনে রাখতে হবে সেসময় আমরা বিরোধী দলে ছিলাম। কিন্তু এখন জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আছি। শক্ত হাতে এসব বন্ধ করা হবে। দায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
অশান্তি বেগমের আক্রমণের শিকার থেকে কেউ রেহাই পায়নি
বিএনপির নেতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উনি জনগণকে ডাক দেন। উনার ডাকে কেউ সাড়া দেয় না। তিনি বলেন, অশান্তি বেগমের আক্রমণের শিকার থেকে নিরীহ গরুও রেহাই পায়নি। তিনি বলেন, রিকশাওয়ালা, গাড়িচালক কেউ রেহাই পায়নি। বারবার আলোচনার ডাক দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি। আলটিমেটাম দিয়েছেন।
তিনি যা গালি দেবেন তাই আর্শীবাদ হয়ে আসবে
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন আমি বিরোধী দলের নেতাও হতে পারব না। উনি যা আমাদের গালি দেবেন সেটাই আর্শীবাদ হয়ে চলে আসবে।’
0 comments:
Post a Comment