শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে বিতাড়িত করতে ২০০৭ সালে সেনাবাহিনী যে ব্যর্থ চেষ্টা করেছিল, এর পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা নেই।
আজ শুক্রবার দ্য ইকোনমিস্ট পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি মূল পত্রিকায় কাল শনিবার প্রকাশিত হবে।
প্রতিবেদনে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে প্রহসন বলে দাবি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার পরিকল্পনা করছেন।
‘শেখ হাসিনা প্ল্যানস টু হ্যাঙ অন টু অফিস আফটার অ্যান ইলেকটোরাল ফার্স’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০৭ সালে দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে একসঙ্গে রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার যে চেষ্টা হয়েছিল, সে রকম আর নিষ্ফল চেষ্টার সম্ভাবনা নেই সেনাবাহিনীর। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে আকর্ষণীয় চাকরি, রাশিয়ান অস্ত্র আর চীনা সাবমেরিনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেখ হাসিনা বেশ সুবিধা নিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে হাসিনা আগামী মাসগুলোতেও সশস্ত্র বাহিনীকে ঘাঁটিতে রাখতে পারবেন।’
প্রতিবেদনের শুরুতেই শেখ হাসিনা সম্পর্কে বলা হয়, ‘তিনি একজন দারুণ অভিনেত্রী, না হয় রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন।’
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজধানী ঢাকায় ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হাসছিলেন আর বলছিলেন, নির্বাচন বর্জন করে বিরোধী দল ভুল করেছে। নির্বাচনে তাঁর জয়ের বৈধতা নিয়ে সংশয়ের বিষয়টি তিনি উড়িয়ে দেন।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রে পচন ধরেছে বলেও মন্তব্য করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নয় কোটি ২০ লাখ সম্ভাব্য ভোটারের মধ্যে (১৫ কোটির বেশি জনসংখ্যার মধ্যে) ভোট পড়েছে খুব সামান্যই। সরকার বলছে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে অন্যরা বলছে খুব কম। আর এই ফলাফল ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে দ্বিতীয় মেয়াদের বৈধতা দিতে পারে না।’
এতে আরও বলা হয়, ‘বহু ভোটকেন্দ্রে তেমন ভোটারই দেখা যায়নি। কিন্তু দিনের শেষে দেখা যায় সন্দেহজনকভাবে বিপুলসংখ্যক ভোট পড়েছে। ৩০০ আসনের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ১৫৩টি আসনে কোনো নির্বাচনই হয়নি। এসব আসনে শুধু আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররাই জয়ী হয়েছে। রাজধানীর ২০টি আসনের মধ্যে ভোট হয়েছে মাত্র নয়টি আসনে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়াকে কার্যত গৃহবন্দী রাখা হয়। শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বর্জন করায় সাবেক সামরিক শাসক ও দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সামরিক হাসপাতালে অবরুদ্ধ রাখা হয়। চতুর্থ রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্বাচনে জয়লাভের পর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে সহিংসতা বন্ধের প্রচেষ্টা হিসেবে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, সব মিলিয়ে রক্তাক্ত কদর্যতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন একটি বছরের শুরু হলো। ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় পাঁচ শর বেশি মানুষ নিহত হয়, যা স্বাধীনতার পর সবচেয়ে সহিংস বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম। ক্ষেত্র বিশেষে সরকার এর জন্য দায়ী করেছে বিএনপিকে, বিশেষ করে এর ইসলামী জোটকে। নির্বাচনের পর তৃণমূল পর্যায়ের সংখ্যালঘুদের ওপর জামায়াতি দস্যুদের হামলার অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি শক্তিগুলো নতুন করে আরেকটি নির্বাচনের জন্য চাপ দেবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে তা তেমন জোরালো নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমা দেশগুলো নির্বাচনে সহিংসতা ও ত্রুটির কথা বলে সমালোচনা করলেও কেউ বলেনি যে শেখ হাসিনার জয় এবং তার সরকার অবৈধ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা হয়তো এ অবস্থায় মনে করতে পারেন, তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে পারবেন। যদি দেখা যায়, তিনি খালেদা জিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন, সেটা হয়তো সময় পার করার জন্য। অন্যদিকে ভবিষ্যত্ নির্বাচনের জন্য সর্বদলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসতে পারে। কিন্তু এসব প্রস্তাবে সমঝোতা হওয়ার জন্য আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। ইতিমধ্যে অবশ্য সরকার জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কে ভাঙতে বিএনপিকে কঠিন চাপ দিতে শুরু করবে।
পত্রিকাটির মতে, বিতর্কিত নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নতুন আরেকটি নির্বাচন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ বিরোধী দল করতে পারবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
তারা লিখেছে, ‘শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবেন কি না, একবার এমন প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনাকে একজন “স্বৈরশাসক” হিসেবে অভিহিত করেন খালেদা জিয়া। খালেদা মনে করছেন তিনি (হাসিনা) “কখনোই ক্ষমতা ছাড়বেন না” তার পরও সবকিছুই যদি ভালো ভালোই চলে, তবে সেই অনুমান ভুল প্রমাণ হতেও মাসের পর মাস সময় লেগে যেতে পারে।’
আজ শুক্রবার দ্য ইকোনমিস্ট পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি মূল পত্রিকায় কাল শনিবার প্রকাশিত হবে।
প্রতিবেদনে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে প্রহসন বলে দাবি করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার পরিকল্পনা করছেন।
‘শেখ হাসিনা প্ল্যানস টু হ্যাঙ অন টু অফিস আফটার অ্যান ইলেকটোরাল ফার্স’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘২০০৭ সালে দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে একসঙ্গে রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার যে চেষ্টা হয়েছিল, সে রকম আর নিষ্ফল চেষ্টার সম্ভাবনা নেই সেনাবাহিনীর। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে আকর্ষণীয় চাকরি, রাশিয়ান অস্ত্র আর চীনা সাবমেরিনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেখ হাসিনা বেশ সুবিধা নিচ্ছেন। এর মধ্য দিয়ে হাসিনা আগামী মাসগুলোতেও সশস্ত্র বাহিনীকে ঘাঁটিতে রাখতে পারবেন।’
প্রতিবেদনের শুরুতেই শেখ হাসিনা সম্পর্কে বলা হয়, ‘তিনি একজন দারুণ অভিনেত্রী, না হয় রাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন।’
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রাজধানী ঢাকায় ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় হাসছিলেন আর বলছিলেন, নির্বাচন বর্জন করে বিরোধী দল ভুল করেছে। নির্বাচনে তাঁর জয়ের বৈধতা নিয়ে সংশয়ের বিষয়টি তিনি উড়িয়ে দেন।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রে পচন ধরেছে বলেও মন্তব্য করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নয় কোটি ২০ লাখ সম্ভাব্য ভোটারের মধ্যে (১৫ কোটির বেশি জনসংখ্যার মধ্যে) ভোট পড়েছে খুব সামান্যই। সরকার বলছে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে অন্যরা বলছে খুব কম। আর এই ফলাফল ২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে দ্বিতীয় মেয়াদের বৈধতা দিতে পারে না।’
এতে আরও বলা হয়, ‘বহু ভোটকেন্দ্রে তেমন ভোটারই দেখা যায়নি। কিন্তু দিনের শেষে দেখা যায় সন্দেহজনকভাবে বিপুলসংখ্যক ভোট পড়েছে। ৩০০ আসনের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ১৫৩টি আসনে কোনো নির্বাচনই হয়নি। এসব আসনে শুধু আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররাই জয়ী হয়েছে। রাজধানীর ২০টি আসনের মধ্যে ভোট হয়েছে মাত্র নয়টি আসনে।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়াকে কার্যত গৃহবন্দী রাখা হয়। শেষ মুহূর্তে নির্বাচন বর্জন করায় সাবেক সামরিক শাসক ও দেশের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে সামরিক হাসপাতালে অবরুদ্ধ রাখা হয়। চতুর্থ রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নির্বাচনে জয়লাভের পর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপকে সহিংসতা বন্ধের প্রচেষ্টা হিসেবে আওয়ামী লীগ আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, সব মিলিয়ে রক্তাক্ত কদর্যতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে নতুন একটি বছরের শুরু হলো। ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতায় পাঁচ শর বেশি মানুষ নিহত হয়, যা স্বাধীনতার পর সবচেয়ে সহিংস বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম। ক্ষেত্র বিশেষে সরকার এর জন্য দায়ী করেছে বিএনপিকে, বিশেষ করে এর ইসলামী জোটকে। নির্বাচনের পর তৃণমূল পর্যায়ের সংখ্যালঘুদের ওপর জামায়াতি দস্যুদের হামলার অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের এমন পরিস্থিতিতে বিদেশি শক্তিগুলো নতুন করে আরেকটি নির্বাচনের জন্য চাপ দেবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে তা তেমন জোরালো নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিমা দেশগুলো নির্বাচনে সহিংসতা ও ত্রুটির কথা বলে সমালোচনা করলেও কেউ বলেনি যে শেখ হাসিনার জয় এবং তার সরকার অবৈধ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনা হয়তো এ অবস্থায় মনে করতে পারেন, তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে পারবেন। যদি দেখা যায়, তিনি খালেদা জিয়াকে আলোচনার প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন, সেটা হয়তো সময় পার করার জন্য। অন্যদিকে ভবিষ্যত্ নির্বাচনের জন্য সর্বদলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসতে পারে। কিন্তু এসব প্রস্তাবে সমঝোতা হওয়ার জন্য আরও কয়েক মাস সময় লেগে যেতে পারে। ইতিমধ্যে অবশ্য সরকার জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্কে ভাঙতে বিএনপিকে কঠিন চাপ দিতে শুরু করবে।
পত্রিকাটির মতে, বিতর্কিত নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে নতুন আরেকটি নির্বাচন এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি ব্যাপক প্রতিবাদ-বিক্ষোভ বিরোধী দল করতে পারবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
তারা লিখেছে, ‘শেখ হাসিনা পদত্যাগ করবেন কি না, একবার এমন প্রশ্ন করা হলে শেখ হাসিনাকে একজন “স্বৈরশাসক” হিসেবে অভিহিত করেন খালেদা জিয়া। খালেদা মনে করছেন তিনি (হাসিনা) “কখনোই ক্ষমতা ছাড়বেন না” তার পরও সবকিছুই যদি ভালো ভালোই চলে, তবে সেই অনুমান ভুল প্রমাণ হতেও মাসের পর মাস সময় লেগে যেতে পারে।’
0 comments:
Post a Comment