
ইজতেমা উপলক্ষে মাঠের সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটি।
বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরব্বি প্রকৌশলী মো. গিয়াসউদ্দিন জানান, প্রথম পর্বের বিশ্ব ইজতেমা আগামীকাল ২৪ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২৬ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। দেশের ৩২টি জেলার তাবলিগ জামাতের মুসল্লি ও সর্বস্তরের মুসলমানেরা প্রথম পর্বে অংশ নেবেন। এ ছাড়া বিশ্বের প্রায় ১৩০টি দেশের মুসলমান এবারের ইজতেমায় অংশ নেবেন। ইজতেমার মাঠকে মোট ৪০টি খিত্তায় ভাগ করে জেলা অনুযায়ী স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা ৩১ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
ইতিমধ্যে এই মহাসম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিন দিনের ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের রাত যাপনের জন্য মাটিতে চট বিছিয়ে, ওপরে শামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। মুসল্লিদের অজু-গোসল, পানের জন্য চৌবাচ্চা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বিশুদ্ধ পানিতে পূর্ণ করা হয়েছে। ইজতেমার শেষ দিন পর্যন্ত এসব চৌবাচ্চায় নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ থাকবে। মাঠের চারদিকে স্থায়ী শৌচাগারের পাশাপাশি নির্মাণ করা হয়েছে অস্থায়ী শৌচাগার। ইজতেমা ময়দানের পশ্চিম দিকে বিদেশি মেহমান খিত্তার পাশে স্থাপন করা হয়েছে নামাজের স্থান। আর তুরাগতীরের পশ্চিম দিকে মাঠের মাঝামাঝি রয়েছে বয়ানের মঞ্চ। মাঠের প্রতিটি কোনে মুসল্লিদের বয়ান শোনার জন্য মাইক লাগানো হয়েছে। ইজতেমা চলার সময় থাকবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ।
আজ ভোরে ইজতেমার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ইতিমধ্যেই মাঠ মুসল্লিদের পদচারণে মুখরিত। বিভিন্ন জেলার কিশোর, যুবক, বয়োজ্যেষ্ঠ সব শ্রেণীর মানুষ ইজতেমায় এসেছেন। গতকাল থেকে ইজতেমা মাঠে প্রবেশপথে মুসল্লিদের ভিড় লেগেই আছে। অনেকে দীর্ঘ চল্লিশ বা ১২০ দিন ইসলামের দাওয়াত শেষ করে ইজতেমায় শরিক হচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ইজতেমা শেষে দেশ-বিদেশ ঘুরে ইসলামের দাওয়াত দিতে ৪০ বা ১২০ দিনের জন্য বেরিয়ে পড়বেন।
যাত্রাবাড়ী থেকে আসা মো. মঞ্জুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, আখেরি মোনাজাত শেষে মুরব্বিদের ঘোষণা এলে ইজতেমা স্থান ত্যাগ করবেন। ইজতেমা মাঠের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে তাঁরা কখনোই ভাবেন না। তাঁদের এখানে আসার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ ও রাসুল (সা.) সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা। অর্জিত জ্ঞান দাওয়াতের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
ইজতেমা মাঠের পাশে স্থাপিত গাজীপুর জেলা প্রশাসনের অস্থায়ী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব ইজতেমা চলাকালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মুসল্লিদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন পানি ও বিদ্যুত্ সরবরাহ থাকবে। সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মুসল্লিদের জন্য চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ মেডিকেল টিম। মাঠের আশপাশের খাবার দোকান ও আবাসিক হোটেলের মান ঠিক রাখতে ১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছেন।
গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার ও র্যাবের মহাপরিচালক গতকাল বিকেলে ইজতেমা মাঠ পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব রকম প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, গোয়েন্দাসহ যৌথ বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। র্যাবের দুটি হেলিকপ্টার ইজতেমা মাঠের আকাশে টহল দেবে। নজরদারির জন্য মাঠের চারদিকে ৬০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান ইজতেমা মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানান, সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে প্রথমবারের মতো তিনি বিশ্ব ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের খেদমত করার সুযোগ পেয়েছেন। দেশ-বিদেশ থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সব রকম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের সব দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন।
স্থানীয় সাংসদ জাহিদ আহসান রাসেল ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় আসা দেশি-বিদেশি মেহমানদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
0 comments:
Post a Comment