
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, প্রচলিত নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে যোগ্যতা ও মেধার প্রতিযোগীতা হচ্ছে না। কায়েমী স্বার্থবাদী শক্তিগুলো ক্ষমতার স্বার্থে অতীতে জনগণকে বারবার ব্যবহার করেছে। একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও আধুনিক দেশ গড়ার লক্ষ্যে এবং গণ-মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতাকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৯-এর গণ-আন্দোলন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রতিটি স্বৈরাচার ও দুঃশাসন বিরোধী আন্দোলনে দেশবাসীর রয়েছে এক ঐতিহাসিক বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা। তিনি বলেন, জাতির প্রয়োজনে দেশের চরম সন্ধিক্ষণে দেশবাসীকে মহান রব্বুল আলামীনের প্রতি পূর্ণ ভরসা রেখে জাহেলী সমাজ ও ঘুণেধরা রাষ্ট্র ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন ছাড়া এদেশের মানুষের ভাগ্যের কাঙ্খিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। পরিবর্তনের এই বিপ্লবের সূচনা করতে না পারলে জাতিকে আরো চরম খেসারত দিতে হতে পারে। দেশপ্রেমিক ও দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে ইসলামকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে ঈমানদার জনতাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। যার মাধ্যমে সূচনা হবে এক নতুন সম্ভাবনার। কাজেই সকল হীনমন্যতা, সংকীর্ণতা আর ভয়-ভীতি ঝেড়ে ফেলে সত্যের পক্ষে, ন্যায়ের পক্ষে সাহসিকতার সাথে সম্মুখপানে এগিয়ে যেতে হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে সৎ পথে ইসলামের পক্ষে কাজের সূচনা করতে হবে।
আলেম-ওলামা ও ইমাম-খতীবদের উপর রাজনৈতিক ও পুলিশি হয়রানী চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অচীরেই তা বন্ধ করতে হবে। ইসলামকে জঙ্গী আদর্শ হিসেবে আখ্যায়িত করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে জিহাদী বই উদ্ধারের নামে বিভিন্ন লোকদের হয়রানী এবং গ্রেফতার বন্ধ করতে হবে।
আজ বাদ জোহর বরিশালের চরমোনাই মাদরাসায় সংগঠনের দায়িত্বশীল ও আলেম-ওলামাদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চরমোনাই আলীয় মাদরাসার প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, মুফতি এছহাক মু. আবুল খায়ের চেয়ারম্যান, মাওলানা মুজিবুর ররহমান কালিশ্বরী, মাওলানা জাকারিয়া হামিদী, মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।
তারিখ: ২৩/০১/২০১৪ ইং
0 comments:
Post a Comment