Sporty Magazine official website |

অভয়নগরে প্রধানমন্ত্রী মনে জোর, অধিকার নিয়ে বাঁচবেন

Thursday, January 23, 2014

Share this history on :
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘অভয়নগরের মানুষের অপরাধ কী? তারা ভোট দিতে গেছে। সেটা মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। সেজন্য তাদের ওপর যে অত্যাচার, নির্যাতন চলেছে, তা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না।’
প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা এ মাটির সন্তান। আপনারা এই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাববেন না। আপনারা মনে জোর নিয়ে, নিজেদের অধিকার নিয়ে বাঁচবেন।’
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে যশোরের অভয়নগর উপজেলার শংকরপাশা মাধ্যমিক স্কুলের মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নির্বাচনের পরে যশোরের অভয়নগর উপজেলার মালোপাড়ায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় যশোরের অভয়নগর উপজেলার মালোপাড়ার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ৫১ পরিবারের প্রত্যেকটিকে ২০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার চেক প্রদান করেন তিনি। সেখানে  বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি মুখে বলেন যে কেউ ভোট দিতে যায়নি। তাহলে ভোট দিতে যাওয়ার অপরাধে এই জুলুম-নির্যাতন কেন?’ অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পক্ষে শেখর চন্দ্র বর্মণ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পুনর্বাসন এবং মন্দির সম্প্রসারণের দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর দাবি পূরণের ব্যাপারে আশ্বাস দেন।
জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দেন। তিনি নির্বাচনের আগে সারা দেশে চলা  অবরোধ, হরতাল ও সহিংসতার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করেন।
বিএনপির নেতা এখন জামায়াতের আমির
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বিএনপির নেতা এখন জামায়াতের আমির হয়ে গেছেন। জামায়াতকে নিয়েই তাঁর ওঠাবসা।’ তিনি বলেন, বিএনপির কাজ যুদ্ধাপরাধীদের পুরস্কৃত করা। যুদ্ধাপরাধের জন্য যাদের বিচার হচ্ছে, শাস্তি হচ্ছে, তাদেরকেও বিএনপির নেতা মন্ত্রী বানিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধীদের হাতে বিএনপির নেতা পতাকা তুলে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জামায়াত ইসলামের নামে রাজনীতি করে কিন্তু ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করে না। এদের প্রভু যে কোথায় সেটাই আমার প্রশ্ন।’
নির্বাচন ঠেকাতে পারেননি খালেদা জিয়া
প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেছেন, তিনি নির্বাচন ঠেকাও আন্দোলন করেছেন। কিন্তু ঠেকাতে পারেননি।  তিনি আন্দোলনের জন্য জনগণকে ডাক দিয়েছিলেন। কেউ সাড়া দেয়নি।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে পারবেন না
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নেতাকে একটা কথাই বলব, সেটা হলো  যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করতে পারবেন না। কোনো সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ আমাদের সরকার বরদাস্ত করবে না। যত কঠোর হওয়া দরকার, আমরা হব।’
খালেদার বক্তব্যে শুধু মিথ্যা
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার  বক্তব্যে শুধু মিথ্যা। তাঁর জন্মদিন যে কয়টা তার হিসাব নাই। তাঁর স্কুলের  ভর্তি ফরমে একদিন, পাসপোর্টে একদিন, বিয়ের কাবিনে একদিন জন্মদিন।’ তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘একজন  মানুষ কয়বার জন্ম নেয়? উনার পাঁচবার জন্ম হয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিথ্যা বলতে বলতে এমনই বদ-অভ্যাস হয়েছে যে উনি স্বামীর জন্মদিনও বদলে ফেলেছেন। কেউ যদি উনার ভুল শোধরাতে যায় তাহলেই উনি বলে দেন “চুপ বেয়াদব”।’
উনার মাথায় কেবল ৫ মে
বিএনপির নেতা খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। সোহরাওয়ার্দীতে বক্তব্য দিতে গিয়ে খালেদা জিয়া সেটাও বদলালেন।’ তিনি বললেন, ‘৫ মে নির্বাচন হয়েছে। কেন মে মাস দেখেছেন তারও একটা কারণ আছে। ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ছিল। সেখানে তিনি ঢাকাবাসীকে আসতে বলেছিলেন। তাই তাঁর মাথায় কেবল ওই চিন্তাই ঘোরে।’
মানুষ খুন ও দুর্নীতিতে বিএনপি সফল
প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, স্কুল পোড়ানো, গাছ কেটে ফেলে দেওয়া , ট্রাকে করে আসা গরু পোড়ানো, মানুষ খুন করা, গুম করা এটাই তাঁদের আন্দোলন। জনগণ তাঁর ডাকে সাড়া দেয় না। মানুষ খুন করা ও  দুর্নীতিতে বিএনপি সফল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করেন। এ দেশে প্রত্যেকে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে। যার যার ধর্ম সে পালন করবে। 
গোপালগঞ্জের ওপর এত রাগ কেন?
বিএনপির চেয়ারপারসনের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘উনার যত রাগ গোপালগঞ্জের ওপর। উনি গোপালগঞ্জ নিয়ে গালি দেন।’ তিনি প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, ‘উনার এত রাগ কেন? জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেখানকার মাটিতে ঘুমিয়ে আছেন।’
গোলাপী রে গোলাপী ট্রেন তো মিস করলি
 শেখ হাসিনা বলেন, ‘নির্বাচনে যোগ না দিয়ে বিএনপির নেতা বুঝতে পেরেছেন যে তিনি কত বড় ভুল করেছেন। তিনি আমাদের গোপালী বলে গালি দেন। এখন যদি আমি বলি, গোলাপী রে গোলাপী ট্রেন তো মিস করলি, তাহলে উনি কী বলবেন?’
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment