স্বামীর ভাড়াটে খুনিদের হাতে খুন হওয়ার এক মাস পর শাহিনা আক্তার নামে তিন সন্তানের জননীর লাশের সন্ধান মিলেছে একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপের ভেতর। শুক্রবার কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলায় শাহীনার মৃত দেহের খোঁজ পায় পুলিশ। এদিকে শনিবার বিকেলে হত্যার অভিযোগে আটক আব্দুল করিম নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দেবীদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের ছেচড়াপুকুরিয়া গ্রামে। ওই বাড়ির আবুধাবী প্রবাসী তিন সন্তানের জনক মোঃ মোবারক হোসেন (৪০) পারিবারিক কলহের জের ধরে তার স্ত্রী সাহিনা আক্তারকে (৩৫) পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ফেব্র“য়ারি রাতে দু’লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনী দিয়ে হত্যার করে। একই বাড়ির ভাড়াটে খুনি আব্দুল করীম (৩৫) তার অপর দু’সহযোগীকে নিয়ে সাহিনা আক্তারকে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে বাড়ির উত্তর পাশের একটি নির্জন জায়গায় শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। পরে তার মৃতদেহ বাড়ির পাশে একটি পরিত্যাক্ত গভীর নলকূপের ১৪ইঞ্চি গোলার্ধ পাইপের ভেতরে লোকিয়ে রাখে। সাহিনা আক্তার অপহরন ও গুম করার অভিযোগে সাহিনার ভাই মোঃ মজিবুর রহমান বাদী হয়ে গত ২৪ফেব্র“য়ারি কুমিল্লার আদালতে একটি অপহরন মামলা দায়ের করেন। এতে সাহিনার স্বামী আবুধাবী প্রবাসী মোবারক হোসেন (৪৫), সাহিনার শ্বাশুরী রফেজা বেগম (৫৮), ছেচড়াপুকুরিয়া গ্রামের ফজর আলীর ছেলে জাহিদ মিয়া (৪৫), মফিজ উদ্দিনের ছেলে রূহুল আমীন (৪২), মোঃ ছোলেমানের ছেলে আব্দুল করিম (৩৫), সহিদ মিয়ার ছেলে সেলিম মিয়া (৩২), আহাম্মদ আলীর ছেলে ইজ্জত আলী (৪৫) এবং মফিজ উদ্দিনের ছেলে খোকন (৩৫)সহ ১০জনকে অভিযুক্ত করা হয় । ওই মামলায় সাহিনার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আব্দুল করীমকে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ্ কামাল আকন্দ একদল পুলিশ নিয়ে কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনম্যান্ট এলাকায় অবস্থান নিয়ে সেখান থেকে কৌশলে তাকে আটক করেন। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল করিম তার অপর দুই সহযোগীর সহায়তায় কিভাবে গৃহবধূ সাহিনা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যা করে গুম করে রাখা হয় তার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। এদিকে আটক আব্দুল করিম নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় তাকে কুমিল্লার ৪নং আমলী আদালতে হাজির করলে আব্দুল করিম সাহিনা আক্তার হত্যার ঘটনায় সে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সিনিয়র বিচারিক আদালতের বিচারক মোঃ সফিকুল ইসলামের কাছে দেয়া জবানবন্দীতে করিম জানায়, সাহিনার স্বামী মোবারক হোসেন থেকে দু’লক্ষ টাকার বিনিময়ে তার অপর দুই সহযোগীর সহায়তায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। বিচারক মোঃ সফিকুল ইসলাম ১৬৪ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করে করিমকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঘাতকরা সাহিনার লাশ পরিত্যাক্ত একটি গভীর নলকূপের ১৪ইঞ্চি গোলার্ধ ৮০ফুট গভীর পাইপের ভেতরে লোকিয়ে রাখে। এ কারনে গত শুক্রবার থেকে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয়রা সাহিনার লাশ উদ্ধার করতে পারেনি। শনিবার সকাল থেকে কুমিল্লা থেকে নলকূপ বসানো দল ৫০হাজার টাকার চুক্তিতে লাশ উত্তোলনের কাজ শুরু করে। তবে লাশ উদ্ধারে কত সময় লাগতে পারে এ বিষয়ে পুলিশ নিশ্চত করে কিছু বলতে না পারলেও দু’তিন দিনের সময় লাগতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাহ্ কামাল আকন্দ বলেন, লাশ উদ্ধারের পাশাপাশি হত্যাকান্ডে জড়িত বাকি আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।
আব্দুল করিমের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
Saturday, March 8, 2014
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...
Labels:
কুমিল্লার নিউজ,
দেশের খবর
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
0 comments:
Post a Comment