
ফ্যাশন হাউস রঙ-এর ডিজাইনার বিপ্লব সাহা জানালেন, পোশাকে বাসন্তী-হলুদ রঙেরই প্রাধান্য থাকছে, তার সঙ্গে যোগ হচ্ছে ম্যাজেন্টা, কমলা, নীল, আকাশি, ফিরোজা, বেগুনি ও টিয়া সবুজের মতো উজ্জ্বল কিছু রং, যে রংগুলো হলুদের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়। ‘হলুদ রংটি এমনিতেই অনেক বেশি উজ্জ্বল ও আকর্ষণীয়। তাই যাঁরা কিছুদিন আগেও রংটি নিয়ে খুঁতখুঁত করতেন, তাঁরাও এখন পোশাকে এ রং বেছে নিতে পারেন সানন্দে।’ বললেন বিপ্লব সাহা।
যাঁরা শাড়ি পরতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, তাঁরা এক রঙের লেগিংসের সঙ্গে কুর্তা পরতে পারেন। কুর্তার নকশায় এবার ফুলেল মোটিফ প্রাধান্য পেয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেল সুতি ও লিনেনের কাপড়ে হ্যান্ডপেইন্ট, স্ক্রিনপ্রিন্ট, টাইডাই, ব্লকপ্রিন্ট, এমব্রয়ডারি এবং ছাপা নকশার কুর্তাগুলোই বেশি চলছে। এ ছাড়া ফ্যাশন হাউস নগরদোলায় পাবেন ব্লকপ্রিন্ট করা লেগিংস।
বিপ্লব সাহা হলুদ কুর্তা অথবা কামিজের সঙ্গে নানা উজ্জ্বল রং দিয়ে তৈরি কোনো ওড়না কিনে নেওয়ার পরামর্শ দেন, যা একরঙা কামিজ বা কুর্তার সঙ্গে বেশ মানিয়ে যাবে। অর্থাৎ কামিজ বা কুর্তার নকশার চেয়ে ওড়নাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েও হতে পারে এবারের ফ্যাশন। এতে আপনার খরচও হবে কম আর ফ্যাশনেও আসবে নতুনত্ব।
স্টুডিও এমদাদের ডিজাইনার এমদাদ হক জানান, এবার তাঁরা ফাল্গুনের সংগ্রহে কিছু কটি রেখেছেন, যা কুর্তা এমনকি পশ্চিমা ধাঁচের পোশাকের সঙ্গেও পরা যাবে। আদিবাসী ধাঁচের কাপড় দিয়ে প্যাচওয়ার্কের নকশায় পোশাক তৈরি করা হয়েছে। আর শাড়িতে থাকছে ব্লকপ্রিন্ট ও টাইডাই। তিনিও ব্লাউজের রঙে বৈপরীত্য আনার পরামর্শ দেন।
রূপবিশেষজ্ঞ কানিজ আলমাস খান সাজ সম্পর্কে জানান, এবারের সাজ হবে অন্যান্যবারের তুলনায় কিছুটা ভিন্নধর্মী। লালটিপ, কাচের চুড়ি আর মাটির গয়না নয়, বরং মেকআপ, গয়না—সবকিছুতেই থাকবে হাল ফ্যাশন ট্রেন্ডের ছোঁয়া। শীতের আমেজ যেহেতু পুরোপুরি চলে যায়নি, তাই পোশাকের মতো মেকআপেও ব্যবহূত হবে উজ্জ্বল রং। ঠোঁট সাজাতে পারেন লাল, কমলা, ম্যাজেন্টা বা বাদামি রঙে। চোখে গ্লিটার ব্যবহার না করে যেকোনো এক রঙের ম্যাট বা পাউডার আইশ্যাডো দিয়ে ওপরে টেনে আইলাইনার লাগালে ভালো দেখাবে। চুল খুলে অথবা বেঁধেও রাখতে পারেন। তবে স্টাইলটা হওয়া চাই আধুনিক। শাড়ির সঙ্গে চুলে ফুল গুঁজতে চাইলে গাঁদার বদলে বেছে নিতে পারেন অন্য কোনো ফুল।
0 comments:
Post a Comment