
সিলেট সংবাদদাতা : সিলেটে মঞ্চে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সামনে রেখেই ছাত্রলীগের দুই পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। মঞ্চে বসে এ অবস্থা দেখে মন্ত্রী উঠে দাঁড়ান। একপর্যায়ে তিনি মঞ্চ ছেড়ে চলে যেতে চান। পরে অবশ্য ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ক্ষমা চেয়ে মন্ত্রীকে মঞ্চে নিয়ে আসেন।
আজ সোমবার দুপুরে সিলেট বিভাগীয় কর্মিসভায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ঘটনা ঘটে।
যোগাযোগমন্ত্রী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘যারা কোন্দল লাগায় তারা ঘরের শত্রু।’ তিনি নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগে শিগগির শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা হবে। যারা ক্যাডারের জন্ম দেয়, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত—তাদের তালিকা (লিস্ট) করা হচ্ছে।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্মিসভা চলাকালে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা স্লোগান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। একপর্যায়ে সামনে বসা নিয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি রুহেল তরফদার ও কর্মী আলী হোসেন হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। মঞ্চে বসে এ অবস্থা দেখে মন্ত্রী উঠে দাঁড়ান। একপর্যায়ে তিনি মঞ্চ ছেড়ে চলে যেতে চান। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের হস্তক্ষেপে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চান।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রাহাত তরফদার প্রথম আলোকে বলেন, স্লোগান দেওয়া ও বসার আসন নিয়ে সামান্য হাতাহাতি হয়েছিল। তিনি জানান, মন্ত্রী ক্ষুব্ধ হয়েছেন দেখে তাঁরা সাক্ষাত্ করেছেন। ক্ষমা চাওয়ার পরে মন্ত্রী তাঁদের ক্ষমা করেছেন।
কর্মিসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় যোগাযোগমন্ত্রী উপজেলা নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, ‘দল মনোনীত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আমাদের আরেকটি চ্যালেঞ্জ। অপশক্তির মোকাবিলায় এ নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সারা বিশ্ব এখন এই সরকারকে বৈধ সরকার হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। দলের নেতা-কর্মীরা না ডোবালে সরকার অবশ্যই ক্ষমতায় টিকে থাকবে।’
এর আগে মন্ত্রী বেলা ১১টায় সিলেট পৌঁছে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহ পরানের (রহ.) মাজার জেয়ারত করেন। পরে সিলেটে সুরমা নদীর ওপর নির্মাণাধীন কাজির বাজার সেতুর নির্মাণকাজ পরিদর্শন করে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিগগির সেতু উদ্বোধন করা হবে বলে জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের তালিকা তৈরি করছে সরকার। এ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ ও নাশকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ ও নাশকতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের একক প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্যে সিলেট নগরের জালালাবাদ গ্যাস মিলনায়তনে দুপুর ১২টায় কর্মিসভার আয়োজন করা হয়। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুজ জহির চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় যোগাযোগমন্ত্রী ছাড়াও সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ উপস্থিত ছিলেন। এতে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ ও সুনামগঞ্জের সভাপতি মতিউর রহমান বক্তব্য দেন।
0 comments:
Post a Comment