
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার বিচারবহির্ভূত ও ক্ষমতাবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড অনুমোদন করে না। যদি এ রকম কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তার তদন্ত করা হবে এবং দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে।
আজ মঙ্গলবার তথ্য মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।
শুরুতেই মন্ত্রী সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার রহস্য উদঘাটন না হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রহস্য উদঘাটন করতে না পারা প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এ জন্য তিনি লজ্জাবোধ করছেন। তবে তিনি সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেবেন, যাতে এই হত্যা-রহস্য উন্মোচন করে জাতিকে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন থেকে যদি একটি গুলি ছোড়া হয়, তার বিচার হয়, কৈফিয়ত দিতে হয়। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হলে বিভাগীয় ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত হয়। এ জন্য অতীতে অনেকের চাকরি চলে গেছে। এখনো যদি এমন হয়, দোষীদের বিচার হবে।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্যমতে, নতুন বছরের শুরুতেই ৪১ দিনে ৪৪ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন। এ বিষয়ে আজ প্রথম আলোতে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না, প্রতিদিন গড়ে একটি ‘হত্যা’—শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, সরকার যখন দেশকে ভয়ংকর সন্ত্রাসবাদ থেকে শান্তির জনপদে আনার চেষ্টা করছে, তখন খালেদ জিয়া অশান্তি তৈরির পাঁয়তারা করছেন মিথ্যাচার দিয়ে। খালেদা জিয়া পরিকল্পিতভাবে দলীয় কর্মী ‘হত্যাতত্ত্ব’ বাজারজাত করার অপচেষ্টা করছেন। তিনি সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক কর্মীর পরিচয় দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। এসব জঘন্য অপরাধীর বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর হওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
খালেদা জিয়া মিথ্যাচার করছেন মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘তাঁর (খালেদা জিয়া) নেতা-কর্মীরা উপজেলা নির্বাচনে হেসে-খেলে-নেচে-গেয়ে মনের আনন্দে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। কেউই এখন পর্যন্ত অত্যাচার-নির্যাতনের অভিযোগ করেনি। তাই খালেদা জিয়া ১৫২ জন হত্যার যে তথ্য দিয়েছেন, তা কল্পকাহিনি ও মিথ্যাচার। আসলে খালেদা জিয়া বদলাননি। এখনো মিথ্যাচার ও সহিংস রাজনৈতিক কৌশল প্রয়োগ করছেন।’
0 comments:
Post a Comment