
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সব সময় জনগণের সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চায়, কখনোই শাসক হিসেবে নয়। আজ বুধবার মিরপুর সেনানিবাসে সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের (ডিএসসিএসসি) স্নাতক ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমান বিশ্বে সশস্ত্র বাহিনীর বহুমাত্রিক ভূমিকার কথা বিবেচনা করে এই বাহিনীকে বাস্তবসম্মত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে বিশ্ব নিরাপত্তা-ব্যবস্থায় নতুন নতুন পরিবর্তনের ফলে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ও দায়িত্বে এসেছে বহুমাত্রিকতা। সশস্ত্র বাহিনীর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমেও পরিবর্তিত সময়ের এই চাহিদার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। সামরিক বাহিনী কমান্ড ও স্টাফ কলেজের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব আরোপ করায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু দেশেই নয়, বহির্বিশ্বেও বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা ও সুনাম অর্জন করেছেন। তাঁদের সাফল্যে সারা বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অনিয়ম, দুর্নীতির প্রশ্নে কাউকেই ছাড় দেইনি। সর্বাত্মক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছি। ডিজিটাল প্রযুক্তি সর্বব্যাপী করে জীবনযাত্রা সহজ ও স্বচ্ছ করেছি। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাস নির্মূল করেছি। দেশসেবায় আমরা আপনাদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা পেয়েছি।’
এ বছর মোট ১৮৮ জন অফিসার ডিএসসিএসসি কোর্স শেষ করেন। এর মধ্যে ১০০ জন সেনাবাহিনীর, ২৩ জন নৌবাহিনীর, ২১ জন বিমানবাহিনীর এবং বাকি ৪৪ জন চীন, মিসর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, আইভরিকোস্ট, জর্ডান, কুয়েত, লাইবেরিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, সৌদি আরব, সিয়েরালিওন, শ্রীলঙ্কা, তানজানিয়া, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং জিম্বাবুয়ের।
ডিএসসিএসসি বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর তিন বাহিনীর প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। এই ইনস্টিটিউটের উদ্দেশ্য কমান্ড ও স্টাফ নিয়োগে তিন বাহিনীর কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত করা।
এ পর্যন্ত ২ হাজার ৯৬৫ জন বাংলাদেশি অফিসার ও ৩৭টি দেশের ৮০৮ জন বিদেশি অফিসার এ কলেজ থেকে স্নাতক কোর্স করেছেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদ, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল ফরিদ হাবিব, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল মুহাম্মদ এনামুল বারি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কূটনীতিক, উচ্চপর্যায়ের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা সস্ত্রীক উপস্থিত ছিলেন।
0 comments:
Post a Comment