
শহীদ মিনারের চারদিক সীমানাপ্রাচীরে ঘেরা। লোহার ফটকে ঝোলানো তালা। তালায় মরিচা ধরেছে। শহীদ মিনার খোলা হয় বছরে মাত্র এক দিন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারিতে। ওই দিন ছাড়া অন্য কোনো দিন কারও শহীদ মিনারে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাই ভাষা দিবস ছাড়া শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো নিষেধ।
এমন বন্দিদশায় রাখা হয়েছে মাগুরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। শহীদ মিনারটি মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সীমানায়। কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এমনটা হচ্ছে। এলাকাবাসী ও কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, কলেজের অধ্যক্ষ জামায়াতপন্থী হওয়ায় শহীদ মিনার বন্ধ রাখেন। তাঁর পূর্বসূরি জামায়াতপন্থী অধ্যক্ষও একুশে ফেব্রুয়ারি ছাড়া সারা বছর শহীদ মিনার বন্ধ রাখতেন বলে অভিযোগ আছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এমন অবস্থা চলছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ মো. এলিয়াছ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘খোলা থাকলে ছেলেপেলে শহীদ মিনারে আড্ডা মারে। শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট করে। তাই কেউ যেন শহীদ মিনারে ঢুকতে না পারে, সেজন্য আমরা তালাবদ্ধ করে রাখি।’
একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারের তালা খোলা হয়। ছাত্র-শিক্ষক, সাধারণ মানুষ এমনকি ভাষাসৈনিকও শহীদ মিনারে কেবল ওই দিনটিতেই যেতে পারেন। বাকি দিনগুলোতে শহীদ মিনারে যাওয়া নিষেধ তাঁদের। বছরের বাকি দিনগুলো শহীদ মিনারে পড়ে থাকে ধুলাবালি, লতাপাতা আর আবর্জনা। একুশে ফেব্রুয়ারি এলে চলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ঝাড়া মোছা আর রং করার কাজ।
এমন বন্দিদশায় রাখা হয়েছে মাগুরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। শহীদ মিনারটি মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সীমানায়। কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই এমনটা হচ্ছে। এলাকাবাসী ও কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অভিযোগ, কলেজের অধ্যক্ষ জামায়াতপন্থী হওয়ায় শহীদ মিনার বন্ধ রাখেন। তাঁর পূর্বসূরি জামায়াতপন্থী অধ্যক্ষও একুশে ফেব্রুয়ারি ছাড়া সারা বছর শহীদ মিনার বন্ধ রাখতেন বলে অভিযোগ আছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এমন অবস্থা চলছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অধ্যক্ষ মো. এলিয়াছ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘খোলা থাকলে ছেলেপেলে শহীদ মিনারে আড্ডা মারে। শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট করে। তাই কেউ যেন শহীদ মিনারে ঢুকতে না পারে, সেজন্য আমরা তালাবদ্ধ করে রাখি।’
একুশে ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনারের তালা খোলা হয়। ছাত্র-শিক্ষক, সাধারণ মানুষ এমনকি ভাষাসৈনিকও শহীদ মিনারে কেবল ওই দিনটিতেই যেতে পারেন। বাকি দিনগুলোতে শহীদ মিনারে যাওয়া নিষেধ তাঁদের। বছরের বাকি দিনগুলো শহীদ মিনারে পড়ে থাকে ধুলাবালি, লতাপাতা আর আবর্জনা। একুশে ফেব্রুয়ারি এলে চলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ঝাড়া মোছা আর রং করার কাজ।
শহীদ মিনারকে বন্ধ করে রাখায় ক্ষোভ জানিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কৃতী খেলোয়াড় নাজমুল হাসান প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘সরকারি কলেজের ভেতরে হলেও শহীদ মিনারটি মাগুরার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ভাষা-আন্দোলনের স্মৃতিচিহ্ন। বাঙালির চেতনার কেন্দ্রবিন্দু। তাই কোনো অজুহাতেই এটিকে বন্দী করে রাখা চলবে না।’
কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র সনিয়া খাতুন বলেছেন, ‘রক্তের বিনিময়ে আমরা মাতৃভাষা বাংলাকে পেয়েছি। বাংলা ভাষা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে। আমরা বাঙালি হিসেবে গর্বিত। কোনো শহীদ মিনারকে প্রাচীরে ঘিরে তালাবদ্ধ-অবরুদ্ধ অবস্থায় দেখিনি। মাগুরা সরকারি কলেজে পড়তে এসে এমন দুঃখজনক দৃশ্য দেখলাম।’
কলেজের সংস্কৃতিকর্মী আলিমুজ্জামান বলেছেন, ‘এ বছর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে আমরা শহীদ মিনারে প্রদীপ জ্বালাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু শহীদ মিনার বন্ধ থাকায় তা পারিনি।’
কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক মো. মাহফুজার রহমান বলেন, ‘ভাবতে পারি না, এমন একটি পবিত্র জায়গাকে কীভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা যায়। মনে প্রশ্ন জাগে, শহীদ মিনার কি শুধু বছরে এক দিন ফুল দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল?’
ভাষাসৈনিক আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শহীদ মিনারকে সীমানাপ্রাচীরে ঘিরে তালাবদ্ধ করে রাখা অত্যন্ত দুঃখজনক।
0 comments:
Post a Comment