ঠিক বেলা ১১টা। যথাসময়ে গুলিস্তানে হাজির হলেন তিনি। মুখে কোনো কথা নেই। তবু শুরু হয়ে গেল এদিক-সেদিক দৌড়াদৌড়ি। কে কোথায় পালাবেন, কোথায় লুকাবেন, তা নিয়ে চলে দৌড়ঝাঁপ। সে এক বিরল এবং ভিন্ন রকম দৃশ্য, চোখে পড়ার মতো। বলা যায়, মিঠুন চক্রবর্তীর ‘ফাটাকেষ্ট’ সিনেমার দৃশ্যও হার মেনেছে বুধবার গুলিস্তানের ঘটনায়।
গুলিস্তান এবং আশপাশের এলাকার ফুটপাতের হকারদের কাছে যিনি ‘ফাটাকেষ্ট’ হিসেবে পরিচিত, তিনি হলেন দেশের যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি সেখানকার যানজট পরিস্থিতি পরিদর্শনে এলে এসব ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই রাস্তার বেশির ভাগ দোকানপাট নেই। তার পরও যে দু-একটি দোকান ছিল, তাদের জরিমানা করছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ম্যাজিস্ট্রেট দাঁড়িয়ে থেকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছেন ফুটপাতের অনেকগুলো দোকান। নিমেষেই এলাকার সবকিছু পরিষ্কার।
মন্ত্রী উপস্থিত হয়েই হুংকার দেন পুলিশকে। এক কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘ফুটপাত ও রাস্তায় কোনো প্রকার দোকানপাট বসতে পারবে না। আপনারা কেন তাদের বসতে দেন। আপনারা বসতে না দিলে কারো বাবার সাধ্য নেই রাস্তা দখল করে দোকান বসানোর। এখন থেকে ফুটপাত ক্লিয়ার থাকবে। এটা জনগণের হাঁটাচলার পথ।’
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আরো বলেন, যারা যানজট নিরসনে ভূমিকা পালন করবেন, তারা পুরস্কৃত হবেন। এ সময় এই এলাকার পুলিশের এসি পেট্রোল, এসি ট্রাফিক, এসআই এবং সার্জেন্টকে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। আর যদি তারা দোকানপাট আবারও বসতে দেন, তবে উল্টো ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।
সংক্ষিপ্ত পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কয়েকটি রং পার্কিং বাসের বিরুদ্ধে মামলা ও পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। এ ছাড়া ফুটপাতে দোকান বসানোর অভিযোগে মোট ১০ দোকানদারকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ সময় এলাকায় একটাই সুর- ফাটাকেষ্ট এসেছেন, তাই গুলিস্তান ফাঁকা।
এদিকে, মন্ত্রী আসার আগেই ডিসিসির একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অবৈধ-দখলদারদের উচ্ছেদ করতে গুলিস্তানে আসেন। এ সময় বুলডোজার দিয়ে ফুটপাতে বসা দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ অভিযান চলে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগ অফিস থেকে বায়তুল মোকাররম মসজিদের পশ্চিম পাশের রাস্তা পর্যন্ত। ম্যাজিস্ট্রেট আতাউর রহমান জানান, আগে থেকে তাদের অনেকবার বলার পরও কাজ হয়নি। তাই আজ এ অভিযান। এরপরও হকাররা বসলে আবার অভিযান চালানো হবে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের গুলিস্তানে আসার কথা ছিল। কোনো কারণে তিনি সেদিন আসতে পারেননি। ফলে গুলিস্তানের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। বুধবার পরিবর্তনের পর কত দিন তা ঠিক থাকবে, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
উৎসঃ রাইজিংবিডি
0 comments:
Post a Comment