
বলা হয়ে ছিল, সন্ধ্যে সাড়ে সাতটায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হবে। এক ঘণ্টা আগে থেকেই ফুলের তোড়া জমতে থাকে মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনের সামনে। ঠিক সাড়ে সাতটায় সবাইকে বাসার ভেতরে যাওয়ার আহ্বান জানালেন অর্থমন্ত্রী। পাশে স্ত্রী সৈয়দ সাবিয়া মুহিত, বড় ছেলে সাহেদ মুহিত ও তাঁর স্ত্রী এবং একমাত্র মেয়ে সামিনা মুহিত। প্রায় ঘরোয়া এই আয়োজনে ফুল ও বই নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে উপস্থিত অতিথিরা।
বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, পরিবারের সদস্য ও মন্ত্রণালয়ের সহকর্মীদের নিয়ে গতকাল শনিবার এভাবেই ৮১তম জন্মদিন পালন করলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। ১৯৩৪ সালের এই দিনে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তত্কালীন সিলেট জেলা মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা আবু আহমদ আবদুল হাফিজ ও সৈয়দ শাহার বানু চৌধুরীর তৃতীয় সন্তান মুহিতের জন্ম ১৯৩৪ সালের ২৫ জানুয়ারি।
অর্থমন্ত্রীর বাসার সামনে ছোট্ট একটা বাগান। বাগানের একপাশে ফুচকা, চটপটি ও গরম জিলাপির আয়োজন। বাগানের সামনে খোলা জায়গায় করা হলো প্যান্ডেল। ভেতরে খাবারের আয়োজন। প্যান্ডেলের ভেতরেই একটি বড় টেবিলে রাখা চারটি বড় কেক। স্ত্রী ও পুত্রবধূর সহযোগিতা নিয়ে কেক কাটলেন মুহিত। উপস্থিত সবাই গাইলেন ‘হ্যাপি বার্থডে টু ইউ’। কেক কাটার আগে ছোট্ট একটি বক্তৃতা দিলেন। শুরু করলেন এভাবে, ‘আমার নাম আবুল মাল আবদুল মুহিত। আপনাদের দোয়া ও আল্লাহর রহমতে আজ আমি ৮১-তে পা দিয়েছি এবং সুস্থ আছি। আমার মতোই ভাগ্যবান এবং দীর্ঘায়ু পেয়েছে আমার পাঁচজন বন্ধু, এখানে উপস্থিত। খুব ভালো লাগছে আমার। আমার সিনিয়র মনে হয় একজনই আছেন। জনাব মতিউল ইসলাম।’
আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামান, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা, অর্থসচিব ফজলে কবীর, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এম আসলাম আলম, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মেজবাহউদ্দিন আহমেদ, বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ প্রমুখ।
অর্থমন্ত্রী সবার উদ্দেশে বলেন, ‘আমার ছোট ছেলেটি বিদেশে। তাই উপস্থিত নেই। তবে সে মানসিকভাবে এই অনুষ্ঠানে আছে।’
ছোট্ট অনুষ্ঠানে সবাইকে আপন করে নিলেন অর্থমন্ত্রী। কেউ এসে ডাকলেন, মামা। কেউ বা চাচা। কাছে ডেকে নিলেন তাঁদের। ছবি তোলার হিড়িক এমনিতেই ছিল। তার পরও অনেককে ডেকে নেন, ‘এসো, বসো। পাশে বসো।’ সদা হাসিখুশি অর্থমন্ত্রী মাঝে মাঝে ছুটেও যাচ্ছিলেন, ‘কেউ কিছু খাচ্ছেন না কেন’ খবর নিতে।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে সঙ্গে কথা হয় আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে। বললেন, ‘জন্মদিনটা আমি সব সময়ই পালন করি। এদিন আমি খুব মজা করি, সেই ছোট্ট বেলা থেকেই।’ এবার নিয়ে তিনবারের অর্থমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ, জনপ্রশাসন, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক বিষয়ে বই লিখেছেন ২১টি।
0 comments:
Post a Comment