Sporty Magazine official website |

শেষ হলো ইজতেমার প্রথম পর্ব হেদায়েত, রহমত ও শান্তি কামনা

Sunday, January 26, 2014

Share this history on :
অশেষ শ্রদ্ধা আর ভক্তি নিয়ে মহান আল্লাহপাকের দরবারে দুই হাত তুলে কেঁদে কেঁদে হেদায়েত, রহমত ও শান্তি কামনার মধ্য দিয়ে আজ রোববার বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে।

আখেরি মোনাজাতে মহান আল্লাহপাকের কাছে অশেষ রহমত কামনায় আবেগাপ্লুত লাখো লাখো মুসল্লির কণ্ঠে উচ্চারিত হয় ‘আমিন আমিন’ ধ্বনি। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে আখেরি মোনাজাত শুরু হয়। শেষ হয় বেলা একটা ১৬ মিনিটে। দিল্লির মাওলানা যোবায়েরুল হাসান আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন। এর আগে হেদায়েতি বয়ান হয়। বয়ান বাংলায় তর্জমা করেন বাংলাদেশের মাওলানা যোবায়েরুল হক।

লাখো লাখো মুসল্লির এই প্রার্থনার ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে টঙ্গীর তুরাগতীরের মূল ইজতেমা মাঠের চারপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা মাঠে, মহাসড়কে, ঘরবাড়ির ছাদে, তীরে থাকা নৌকায়, পথে আটকে থাকা বাসে, ট্রাকে, ব্যক্তিগত গাড়িতে বসে আল্লাহর দরবারে দুই হাত তোলেন। এ সময় গোটা ইজতেমা ময়দান এক পুণ্যময় ভূমিতে পরিণত হয়। নিজ নিজ গুনাহ মাফ ও আত্মশুদ্ধি লাভের প্রত্যাশায় মুসল্লিরা অশ্রুসিক্ত হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে পানাহ চান।
টঙ্গীজুড়ে মুসল্লি: মাথায় টুপি, গায়ে পাঞ্জাবি, মুখে ‘আমিন আমিন’ ধ্বনি। টঙ্গীর সর্বত্র ছিল আখেরি মোনাজাতে অংশগ্রহণকারী মানুষের ঢল। সকাল থেকে দূর-দূরান্তের মানুষ আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ও চারপাশের সড়ক, মহাসড়ক, বসতবাড়ি, স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অবস্থান নেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে। মোনাজাতের আগে আগে মানুষের ভিড় গাজীপুরের দিকে ভোগড়া বাইপাস, ঢাকার দিকে খিলখেত, পশ্চিমে আশুলিয়া বাইপাস পর্যন্ত ও পূর্বে টঙ্গী কালিগঞ্জ সড়কের নিমতলী রেলগেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ইজতেমা মাঠের চারদিকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে মানুষের ভিড় ছিল। এভাবে গোটা টঙ্গী মুসল্লিদের শহরে পরিণত হয়। মুসল্লিরা জায়নামাজ, পত্রিকা, মাদুর, কাগজের টুকরা, পলিথিন, বাঁশের চাটাই, হোগলার চাটাই বিছিয়ে রাস্তাও খোলা জায়গায় বসে মোনাজাতে অংশ নেন।
রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বঙ্গভবনে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া টঙ্গীর অ্যাটলাস কারাখানার ছাদে বসে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন। ছবি: পিআইডি ও বিএনপির সৌজন্যে।মোনাজাত শেষে বাড়ি ফেরা: মোনাজাত শেষ হওয়ার পর শুরু হয় বাড়ি ফেরার তাড়া। যে যেভাবে পারছেন, সেভাবেই গন্তব্যে যাচ্ছেন। যানবাহন না পাওয়ায় অনেক মুসল্লিকে হেঁটেই রওনা দিতে দেখা গেছে।

টঙ্গীর রেলওয়ে স্টেশনের কর্মকর্তা মো. হালিমুজ্জামান জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে আখাউড়া, কুমিল্লা, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রেলপথে ২৯টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আখেরি মোনাজাতের আগে ও পরে সব ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে।

পোশাক কারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ছুটি: টঙ্গী বিসিক কারখানা মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল কুদ্দুস জানান, আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে বিসিকসহ টঙ্গীর সব পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং স্কুল, কলেজেও ছুটি ছিল বলে জানা গেছে।

তিন দিনে আট মুসল্লির মৃত্যু: গতকাল শনিবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আরও তিন মুসল্লি মারা গেছেন। তাঁরা হলেন ঢাকার বংশালের ছিদ্দিক বাজার এলাকার সিরাজ মিয়া (৫০), সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার লাঙ্গলবন্ধ এলাকার সামির উদ্দিন (৭৫) ও ঢাকার দোহারের জাহা বক্স এলাকার কাসেম আলী (৫৭)।
এ ছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল শনিবার ভোরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের জিহাদ আলী (৫৩), ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের মো. সামশুদ্দিন (৬০) ও ইয়েমেনি নাগরিক আহমেদ আবু আবদুল জহির (৭০) মারা গেছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের ওমর আলী (৪৮) ও সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার আবদুল মজিদ প্রামাণিক (৬৫) মারা যান।
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেতার অংশগ্রহণ: রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বঙ্গভবনের দরবার হলে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে বসে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া টঙ্গীর এটলাস বাংলাদেশ লিমিটেডের ছাদে বসে মোনাজাতে অংশ নেন।

Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment