বৃহত্তর চট্টগ্রামে বুধবার হরতাল ডেকেছে ছাত্রশিবির
|
আপডেট: ১৮:২৪, জানুয়ারি ১৩, ২০১৪
বৃহত্তর চট্টগ্রামে আগামীকাল বুধবার হরতালের ডাক দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের এক নেতাকে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা গলা কেটে ও গুলি করে হত্যা করেছে। এর প্রতিবাদে বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হবে।’ নিহত শিবিরের নেতা মামুন হোসেনের গায়েবানা জানাজা শেষে ছাত্রশিবিরের মহানগর উত্তরের সভাপতি এ ঘোষণা দেন বলেও জানান মোস্তাফিজুর।
সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল রোববার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা করেছে।
গত শনিবার রাতে সিলেট নগরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক জালাল আহমদের ওপর হামলা করে হাত ও দুই পায়ের রগ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এর জের ধরে ওই রাতেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবির মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে গতকাল বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের শাহ আমানত আবাসিক হলের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন নিহত হন। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের পরপরই গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক জরুরি সভা ডাকে। সভায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহ আমানত হল বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে নতুন করে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের শাহজালাল আবাসিক হল ও রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেলেও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের নিয়ন্ত্রিত চারটি হলে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলেও কোনো বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবুল কাশেম ‘প্রথম আলো’কে বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে শাহ আমানত হলের প্রাধ্যক্ষ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গতকাল রাতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ১০। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে ছয় প্লাটুন পুলিশ, দুই প্লাটুন বিজিবি ও এক প্লাটুন র্যাব সদস্য মোতায়েন রয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) খান তৌহিদ ওসমান ‘প্রথম আলো’কে বলেন, ‘দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ায় আজ (সোমবার) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। এই কারণে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। আস্তে আস্তে পরিস্থিতি ভালো হয়ে উঠবে।’
ক্যাম্পাসে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ছাত্রলীগের
সংঘর্ষের জন্য ছাত্রশিবিরকে দায়ী করে আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রলীগের অন্য দাবিগুলো হলো বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীবুল হাসানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার, বিভিন্ন আবাসিক হল ও কটেজে তল্লাশি করে বহিরাগত শিবিরের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুই খুনের মামলায় অন্তর্ভুক্ত শিবির ক্যাডারদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাহ আমানত হল খুলে দেওয়া।
কবরে অফিসের ব্যবস্থা করুন!
সংঘর্ষের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন শিক্ষকদের মুঠোফোনে ফোন করে ও খুদেবার্তা দিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ‘প্রথম আলো’কে বলেন, অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে ও খুদেবার্তা দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হুমকিদাতারা ওই শিক্ষকদেরকে কবরে অফিস করার ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, ‘আমাদের এক নেতাকে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা গলা কেটে ও গুলি করে হত্যা করেছে। এর প্রতিবাদে বুধবার চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত হবে।’ নিহত শিবিরের নেতা মামুন হোসেনের গায়েবানা জানাজা শেষে ছাত্রশিবিরের মহানগর উত্তরের সভাপতি এ ঘোষণা দেন বলেও জানান মোস্তাফিজুর।
সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল রোববার রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি মামলা করেছে।
গত শনিবার রাতে সিলেট নগরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক জালাল আহমদের ওপর হামলা করে হাত ও দুই পায়ের রগ কেটে দেয় দুর্বৃত্তরা। এর জের ধরে ওই রাতেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবির মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে গতকাল বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের শাহ আমানত আবাসিক হলের সাধারণ সম্পাদক মামুন হোসেন নিহত হন। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের পরপরই গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এক জরুরি সভা ডাকে। সভায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহ আমানত হল বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
ঘটনার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে নতুন করে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের শাহজালাল আবাসিক হল ও রেলস্টেশন এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেলেও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের নিয়ন্ত্রিত চারটি হলে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা থাকলেও কোনো বিভাগ ও ইনস্টিটিউটে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবুল কাশেম ‘প্রথম আলো’কে বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে শাহ আমানত হলের প্রাধ্যক্ষ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গতকাল রাতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর ১০। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে ছয় প্লাটুন পুলিশ, দুই প্লাটুন বিজিবি ও এক প্লাটুন র্যাব সদস্য মোতায়েন রয়েছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) খান তৌহিদ ওসমান ‘প্রথম আলো’কে বলেন, ‘দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ায় আজ (সোমবার) শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। এই কারণে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। আস্তে আস্তে পরিস্থিতি ভালো হয়ে উঠবে।’
ক্যাম্পাসে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি ছাত্রলীগের
সংঘর্ষের জন্য ছাত্রশিবিরকে দায়ী করে আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ছাত্রলীগের অন্য দাবিগুলো হলো বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীবুল হাসানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার, বিভিন্ন আবাসিক হল ও কটেজে তল্লাশি করে বহিরাগত শিবিরের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুই খুনের মামলায় অন্তর্ভুক্ত শিবির ক্যাডারদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাহ আমানত হল খুলে দেওয়া।
কবরে অফিসের ব্যবস্থা করুন!
সংঘর্ষের পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন শিক্ষকদের মুঠোফোনে ফোন করে ও খুদেবার্তা দিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক ‘প্রথম আলো’কে বলেন, অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে ও খুদেবার্তা দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হুমকিদাতারা ওই শিক্ষকদেরকে কবরে অফিস করার ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
0 comments:
Post a Comment