
ওবামা জানান, ছোটবেলায় প্রতিদিন ভোর সাড়ে চারটা থেকে পাঁচটার মধ্যে তিনি বিছানা ছাড়তেন। তিনি বলেন, ‘শৈশবের কিছু সময় আমার বিদেশে (ইন্দোনেশিয়ায়) কেটেছে। সে সময় আমার মায়ের ভয় ছিল, দেশের বাইরে থাকার কারণে আমি পিছিয়ে পড়তে পারি। তাই প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই তিনি আমাকে ঘুম থেকে তুলে দিতেন। তিনি চাইতেন সেখানকার পড়াশোনার পাশাপাশি আমি যেন যুক্তরাষ্ট্রের পড়াশোনাটার পদ্ধতিও সমানভাবে অনুসরণ করি।’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ওবামা বলেন, ‘তোমাদের বয়স যদি সাত কিংবা আট হয়, তবে রোজ ভোর সাড়ে চারটা বা পাঁচটায় উঠতে কখনো ভালো লাগবে না। আমারও ভালো লাগত না। এ জন্য প্রায়ই অভিযোগ করতাম আমি। মা রাগ করে বলতেন, “আমরা এখানে পিকনিক করতে আসিনি।” তিনি মনে করতেন, তাঁর সন্তানেরা যদি উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়, তবেই কেবল পৃথিবীর অবারিত দুয়ারগুলো তাঁদের জন্য খুলে যাবে।’
ওবামা বলেন, ‘আমার মা নানা-নানির সাহায্য নিয়ে আমাকে এককভাবে লালন-পালন করেছেন। আমাদের খুব বেশি টাকা-পয়সা ছিল না। দুটো সন্তানকে বড় করতে ও নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে আমার মাকে অনেক লড়াই করতে হয়েছে। আমাদের যদিও খুব একটা টাকা ছিল না, তবে আমি বেশ কয়েকটি নামকরা কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি আর আমার স্ত্রী মিশেল এমন অনেক কিছু অর্জন করেছি, যা আমাদের অভিভাবকেরা কল্পনাই করতে পারতেন না। এখন আমার সন্তানেরা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে নামকরা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। আমি চাই, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশু-কিশোর যেন সেই সুযোগ পায়।’
0 comments:
Post a Comment