Sporty Magazine official website |

সংসদ রেখে সংবিধান লঙ্ঘন করে এমপিদের শপথ আজ

Wednesday, January 8, 2014

Share this history on :


সংসদ রেখে সংবিধান লঙ্ঘন করে এমপিদের শপথ আজ

http://comillatimes24.blogspot.com/
নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে দেশ বিদেশে গুরুতর প্রশ্নের মধ্যেই আজ শপথ নিচ্ছেন একতরফা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীরা। সকাল দশটায় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত ২৯০ জন প্রার্থীর শপথ অনুষ্ঠিত হবে।
তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, নবম জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নতুন এমপিদের শপথ সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা বলেন, আগের সংসদ না ভেঙে নতুন সংসদ নির্বাচনই সংবিধানসম্মত নয়। ঠিক একইভাবে সংসদ বহাল রেখে নতুন নির্বাচিত এমপিদের নামে গেজেট প্রকাশ ও তাদের শপথ গ্রহণ সংবিধানের লঙ্ঘন।
জাতীয় সংসদের জনসংযোগ কর্মকতা জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, আজ সকাল দশটায় সংসদ ভবনে দশম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীরা শপথ নেবেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এরই মধ্যে নবম সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার কার্যালয় খালি করা হয়েছে। গতকাল বিকাল ৪টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী শপথকক্ষ পরিদর্শন করেছেন। সংসদের কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের শপথপত্র তৈরি করছেন।
অন্যদিকে সরকারের উচ্চপর্যায় সূত্রে গেছে, ১২ জানুয়ারি নতুন সরকার শপথ নেবে।
সরকারি সূত্র জানায়, গত সোমবার গণভবনে নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শেষে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সংসদ সদস্য ও সরকারের শপথ নিয়ে কথা বলেন তারা। দু-তিনজন নেতা প্রধানমন্ত্রীকে ২৪ জানুয়ারির পর শপথ নেয়ার কথা বলেন। আবার নেতাদের কেউ কেউ দ্রুত শপথ নেয়া যায় কিনা, তা খতিয়ে দেখার কথাও বলেন।
নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ বলেন, সরকার গঠন না করে এভাবে দীর্ঘদিন নির্বাচনকালীন সরকার দায়িত্বে থাকা ঠিক হবে না। খুব দ্রুততম সময়ে নতুন সংসদ এবং সরকার কার্যকর করা প্রয়োজন।
এ অবস্থায় ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের ফলাফলের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
তবে গেজেটে সরকারদলীয় দুই সংসদ সদস্যকে বাদ দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে শোকজ জারি করা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ইসি দুজনের নাম গেজেট তালিকা থেকে বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই হিসেবে মোট ২৯০ জন সংসদ সদস্যের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
গত মঙ্গলবার রাতে কমিশন সভায় তাদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল এ নোটিশ দেয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির ষড়যন্ত্রের প্রমাণও পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের সংসদ সদস্য বাতিল এবং কারাদণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে।
ভোটগ্রহণের আগে যশোর-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও তার বেয়াই উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে যশোর-২ আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মনিরুল ইসলাম নির্বাচন নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করেন।
আফিল উদ্দিন তার বেয়াইয়ের পক্ষে প্রচারণায় নেমে প্রকাশ্যে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের ১০০ জন কর্মী ভোটকেন্দ্র দখল করে বেলা ১১-৫৯ মিনিটের মধ্যে ‘নৌকা প্রতীকের জয় সুনিশ্চিতকরণ’-এর ফর্মুলা দেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ১০০ কর্মী কেন্দ্রে থাকবে, পালাক্রমে ভোট দেবে। কর্মীদের সাহস দিয়ে আফিল উদ্দিন বলেন, ‘আপনারা যদি কোনো প্রশাসনিক সমস্যায় পড়েন আমাকে বলবেন, আমি জবাব দেব। তার (বেয়াই) জন্য যা যা করণীয় ভোটের মধ্যে তা কিন্তু করা লাগবে। কী করা লাগবে, আমি তা মাইকে বলতে পারব না। একা একা জিজ্ঞেস করবেন, বলে দিব।’
ইসি জানায়, যশোরের নির্বাচনী তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান মো. জামাল হোসেন তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছেন। বিষয়টি তিনি ইসিকে জানিয়েছেন। ইসির কর্মকর্তারা বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৮১ ধারা অনুযায়ী দুই বেয়াইয়ের তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে। এবং ৯১ (ই) ধারা অনুযায়ী এদের প্রার্থিতা বাতিল করতে পারে ইসি।

আইন বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদদের অভিমত
নবম সংসদ বহাল রেখে নতুন এমপিদের শপথ সংবিধানের লঙ্ঘন
নবম জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নতুন এমপিদের শপথ সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিমত আইন বিশেষজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের। তারা বলেন, আগের সংসদ না ভেঙে নতুন সংসদ নির্বাচনই সংবিধানসম্মত নয়। ঠিক একইভাবে সংসদ বহাল রেখে নতুন নির্বাচিত এমপিদের নামে গেজেট প্রকাশ ও তাদের শপথ গ্রহণ সংবিধানের লঙ্ঘন।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা জানান, জাতীয় সংসদ বহাল রেখে পুনরায় সংসদ নির্বাচনের ঘটনা প্রথম ঘটেছে বাংলাদেশেই। সংসদ না ভেঙে নতুন করে সংসদ নির্বাচনের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিটও ইতোমধ্যে দায়ের করা হয়েছে হাইকোর্টে। এতে দাবি করা হয়েছে, বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদ বহাল রেখে নতুন করে সংসদ নির্বাচন সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্বে হেয় করা হয়েছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গতকাল নতুন নির্বাচনের ফলাফল সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা গেজেট দ্বারা প্রকাশ করে ইসি সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের তিন দফার শর্ত নির্দিষ্টভাবে লঙ্ঘন করেছে। শপথ পড়ানোর দায়িত্ব নিয়ে স্পিকারও তার শপথও লঙ্ঘন করেছেন।
১২৩ অনুচ্ছেদের বিধান নিম্নরূপ : ‘(৩) সংসদ-সদস্যদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে (ক) মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে: এবং (খ) মেয়াদ-অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার ক্ষেত্রে ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে: তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার (ক) উপ-দফা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত ব্যক্তিগণ, উক্ত উপ-দফায় উল্লিখিত মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ-সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করিবেন না।’
দশম সংসদ নির্বাচন ১২৩ অনুচ্ছেদের (ক) উপদফা মতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুতরাং সংবিধান অনুসারে ‘নির্বাচিত ব্যক্তিগণ’ আগামী ২৪ জানুয়ারি অর্থাত্ ‘মেয়াদ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সংসদ-সদস্যরূপে কার্যভার গ্রহণ করতে পারেন না।’ কিন্তু শপথ নিয়ে আজই তারা কার্যভার গ্রহণ করছেন।
একটি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, বর্তমান সরকার সংবিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে একটি বাজে নজির স্থাপন করেছে। সংসদ বহাল রেখে নতুন করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো নজির না থাকলেও সরকার এক্ষেত্রে একটি খারাপ নজির স্থাপন করেছে। সরকার তার ইচ্ছা পূরণের জন্য সংবিধানের অপব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বোকা বানাতে চায়।
তিনি বলেন, সরকারের সবকিছু জনগণ ভালো চোখে দেখে না। সময় ও সুযোগ পেলে জনগণ সঠিকভাবেই এর জবাব দেয়। ৫ তারিখের নির্বাচনেও সেটা দেখিয়ে দিয়েছে জনগণ। তারা সংবিধান পরিপন্থী একতরফা এ নির্বাচন বর্জন করে দেখিয়ে দিয়েছে, সরকারের কাজকর্ম জনগণ পছন্দ করছে না।
রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না গতকাল একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বলেন, দেশে এখন কতজন সংসদ সদস্য রয়েছেন তা কারো পক্ষেই বলা সম্ভব নয়। সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ উপ-অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকারী বিজ্ঞপ্তি- দ্বারা রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করিবেন এবং সংসদ আহ্বানকালে রাষ্ট্রপতি প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করিবেন।’
একই অনুচ্ছেদের ৩ উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রপতি পূর্বে ভাঙ্গিয়া না দিয়া থাকিলে প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে পাঁচ বত্সর অতিবাহিত হইলে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবে।’ তিনি বলেন, এই দুটি পদ্ধতি ছাড়া চলমান সংসদ ভাঙার কোনো সুযোগ নেই। নবম সংসদের বিষয়ে এখনো এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ফলে নবম সংসদ এখনো বহাল রয়েছে। নবম সংসদ বহাল রেখে দশম সংসদের জন্য নির্বাচন, নির্বাচিত সদস্যদের নামে গেজেট প্রকাশ কিংবা শপথ গ্রহণ কোনোটাই সংবিধানসম্মত নয়। এটা সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন। যদিও এখন প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা বা সিদ্ধান্তই হচ্ছে মুখ্য বিষয়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্ধেকেরও বেশি আসনে এমপিরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর অবশিষ্ট আসনগুলোতে গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচন হয়। নবম সংসদ বহাল রেখে ইতোমধ্যেই নির্বাচিত ২৯০ জনের নামে গেজেটও প্রকাশিত হয়। এটাও সংবিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিমত দিয়েছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। যদিও সরকারের ইচ্ছামাফিক সরকারি মন্ত্রীরা বলছেন, গেজেট প্রকাশ ও এমপিদের শপথ গ্রহণে সাংবিধানিক বিধি-নিষেধ নেই। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গেজেট প্রকাশের পর দেশে কতজন এমপি হলেন, সেটাই এখন হিসাবের বিষয়। কেননা নবম সংসদ বহাল রয়েছে। কাজেই আগের তিনশ’ এমপিও বহাল আছেন। গেজেট হওয়ায় নতুন করে আরো এমপি হলেন ২৯০ জন। যদিও এদের অনেকেই ডাবল এমপি হয়েছেন। সংবিধানে বলা আছে, ৩০০ জন সংসদ সদস্য নিয়ে সংসদ গঠিত হবে। এ নিয়ে টিভি টক শোতেও চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।
এদিকে ১৫৩ জন এমপি ভোট ছাড়াই বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়েও হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওইসব আসনের ভোটাররা সংবিধান স্বীকৃত তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সংবিধানে বলা হয়েছে, ‘একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ হইতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত তিন শত সদস্য লইয়া সংসদ গঠিত হইবে।’
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment