Sporty Magazine official website |

চট্টগ্রামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই যুবক নিহত

Wednesday, January 15, 2014

Share this history on :
চট্টগ্রাম নগরে গতকাল বুধবার ভোরে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই যুবক নিহত হয়েছেন। দুর্বৃত্তদের হাতে পুলিশের এক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁরা জড়িত বলে তথ্য থাকার দাবি করেছে পুলিশ।
গত সোমবার রাতে আগ্রাবাদ সিজেকেএস কলোনি এলাকায় দামপাড়া পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল ফরিদ উদ্দীন (৪৪) ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এর এক দিন পরই ওই ‘বন্দুকযুদ্ধের’ ঘটনা ঘটল।
পুলিশের ভাষ্য, হালিশহর বেড়িবাঁধের গলাচিপা এলাকায় গতকাল ছিনতাইকারীদের ধরতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ওই দুই যুবক নিহত হন। তাঁরা হলেন মোহাম্মদ নাছির (২৫) ও মোহাম্মদ রাজীব (২৩)।
তবে নিহত ওই দুই যুবকের পরিবার বলছে, তাঁরা নিরীহ। কোনো রাজনীতি কিংবা অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। কোনো মামলাও নেই তাঁদের বিরুদ্ধে।
‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই যুবক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে আগ্রাবাদ এক্সেস সড়কে অবরোধ তৈরি করেন এলাকাবাসী। তাঁরা বেলা দুইটা থেকে তিনটা ২০ মিনিট পর্যন্ত ওই সড়কে অবস্থান নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। রাজীব আগ্রাবাদ হাজীপাড়ার মোহাম্মদ ইউসুফের ছেলে এবং নুরুল আলম কোম্পানির ছেলে নাছির। নাছির ট্রাকচালক আর রাজীব চালাতেন তেলের দোকান।
হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ শাহজাহান কবীরের ভাষ্য অনুযায়ী, ডবলমুরিং থানার পুলিশ খবর পেয়ে হালিশহর বেড়িবাঁধ এলাকায় দুই ছিনতাইকারীকে ধরতে গেলে তাদের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে বন্দুকযুদ্ধে দুজন নিহত হন। ঘটনাস্থল থেকে দুটি চাপাতি, একটি একনলা বন্দুক ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে পালিয়ে গেছে তাঁদের দুই সহযোগী। ওসি জানান, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় হালিশহর থানার এসআই নাজমুল হক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন।
মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (পশ্চিম) তানভীর আরাফাত জানান, সোমবার রাতে আগ্রাবাদ সিজেকেএস কলোনি এলাকায় কনস্টেবল ফরিদ দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় লোকদের আসামি করে ডবলমুরিং থানায় মামলা হয়।
তানভীর আরাফাতের বিবরণ অনুযায়ী, হালিশহর বেড়িবাঁধের গলাচিপায় ছিনতাইকারীরা অবস্থান করছে—এ খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ১০-১২ জন ছিনতাইকারী। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন দুজন।
তানভীর দাবি করেন, রাজীব ও নাছির কনস্টেবল ফরিদ হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অন্য থানায় মামলা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। সেখানে লাশ পৌঁছার পর রাজীব ও নাছিরের স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এ সময় রাজীবের বড় ভাই মজিবুর রহমান বলেন, ‘ভোরে দোকান খুলতে গেলে আমার ভাইকে পুলিশ টেম্পোতে তুলে নিয়ে যায়। পরে শুনি, হালিশহর বেড়িবাঁধে পুলিশের গুলিতে সে নিহত হয়েছে।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ভাইয়ের কী অপরাধ? কোন দেশে বাস করছি আমরা? আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। এলাকার সবাই জানে, চিনে। দীর্ঘদিন ধরে আমার ভাই আগ্রাবাদ এক্সেস রোডে তেল ও মবিল বিক্রি করে।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমরা আল্লাহর কাছে বিচার দিচ্ছি। এ দেশে পুলিশের বিচার কে করবে? শুনতেছি, প্রতিবাদ করলে আমাদেরও ক্রসফায়ারে দিবে পুলিশ।’
পাঁচ ভাই দুই বোনের মধ্যে দ্বিতীয় রাজীব। বিবাহিত রাজীবের কোনো সন্তান নেই।
বিলাপ করতে দেখা গেছে নাছিরের স্বজনদেরও। নাছিরের বড় ভাই আকরাম হোসেন বলেন, ‘ভাইয়ের বউ অন্তঃসত্ত্বা। ওই সন্তান কাকে বাপ ডাকবে? কোন অপরাধে ভাইকে পুলিশ ক্রসফায়ার করল? তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। ট্রাক চালিয়ে সংসার চালায়। সে পেশাদার ছিনতাইকারী হলো কখন?’
মর্গের সামনে কাঁদতে কাঁদতে মূর্ছা যাচ্ছিলেন নাছিরের বৃদ্ধ মা আছমা খাতুন। তিনি শুধু বলছিলেন, ‘পুলিশ কেন গুলি করল আমার ছেলেরে।’
মাঝিরঘাট ট্রাকচালক সমিতির নেতা দোস্ত মোহাম্মদ বলেন, ‘নাছিরদের তিনটি গাড়ি রয়েছে জানি। এর একটি তিনি চালাতেন। এর বাইরে তিনি অন্য কিছুর সঙ্গে জড়িত কি না, তা জানা নেই।’
আগ্রাবাদ হাজীপাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা ইসকান্দর আলী বলেন, ‘রাজীব ও নাছিরকে দীর্ঘদিন ধরে আমি চিনি। আমার জানামতে, তাঁরা কোনো রাজনীতি ও অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। একজন ট্রাক চালিয়ে এবং অপরজন দোকান করে সংসার চালাতেন।’
Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment