
রাজধানীর গ্যাস-সংকট নিয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষে কর্তব্যরত এক কর্মীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি এমন জবাবই দেন। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, শীতকালে গ্যাসের কিছু সমস্যা থাকে। তবে এবার প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহও অনেক কম বলে সমস্যা প্রকট হয়েছে।
এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি আবাসিক গ্রাহকদের। অনেক এলাকায় চুলা জ্বলছে টিমটিম করে। অনেক এলাকায় চুলা জ্বলছে না বললেই চলে। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সংকট তীব্র। গ্যাস-সংকটের কারণে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে অনেক সিএনজি স্টেশন। তেজগাঁও, শ্যামপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শিল্প-কারখানার উৎপাদনও বিঘ্নিত হচ্ছে গ্যাসের চাপ ঠিক না থাকায়।
তিতাস গ্যাস কোম্পানির পরিচালক (উৎপাদন) মীর মশিউর রহমান সমস্যার বিষয় স্বীকার করে বলেন, এক হাজার ৮০০ থেকে প্রায় দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে পেট্রোবাংলা থেকে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে সার্বোচ্চ এক হাজার সাড়ে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
পরিচালকের দাবি, বিকেল পাঁচটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত সিএনজি স্টেশনগুলো যখন বন্ধ থাকে, স্থানীয় আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাসের সমস্যা হয় না।
প্রসঙ্গত, রাজধানী ও আশপাশের এলাকা নিয়ে তিতাস গ্যাস অঞ্চল। গ্যাসের মোট চাহিদার প্রায় ৮ শতাংশ আবাসিক খাতে ব্যবহূত হয়।
দুর্ভোগ: বাসাবো কদমতলার হীরাঝিল গলির গৃহিণী অনামিকা মাহবুব সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্যাসের চুলা ব্যবহার করতে পারেন না। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘শীতের মধ্যে গভীর রাতে পরদিনের রান্না করে রাখতে হয়। এটা অসহনীয়।’ কাঁঠালবাগানের বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন আলাদা সিলিন্ডার কিনেছেন বলে জানালেন। পুরান ঢাকার রাজার দেউড়ীর সুদেব ঘোষকে রান্নার জন্য কেরোসিন চুলার ব্যবস্থা করতে হয়েছে।
দনিয়ার কবিরাজবাগ এলাকায় গ্যাসের অভাব প্রকট হওয়ায় সায়েদাবাদে বাসা ভাড়া নিয়েছেন চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম। সেখানে বড় পাইপলাইন থাকায় আপাতত সংকট নেই।
জানা গেছে, গোপীবাগ, আর কে মিশন রোড, স্বামীবাগ, মানিকনগর, গোলাপবাগ, ওয়ারি, উত্তর মৈশুণ্ডি, দয়াগঞ্জ, গেন্ডারিয়া, বকশিবাজার, দক্ষিণ কমলাপুর, বনশ্রী, পূর্ব ও পশ্চিম রামপুরাসহ অনেক এলাকায় দিনে বেশ কয়েক ঘণ্টা গ্যাসের চুলা জ্বলছে না। কাজীপাড়া, তেজকুনি পাড়া, নাখালপাড়া, তেজগাঁও, কাফরুল, পূর্ব ও পশ্চিম শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, মিরপুরের বিভিন্ন সেকশন, সেনপাড়া পর্বতা, কল্যাণপুর, ধানমন্ডির রায়েরবাজার, নূরজাহান রোডসহ পুরো মোহাম্মদপুরেও তীব্র সংকট বিরাজ করছে। বিশেষ করে রাস্তার শেষ প্রান্তের বাড়িগুলোতে রাত ১০টার আগে গ্যাস আসে না।
সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি: মগবাজার মোড়ে অবস্থিত আনুদীপ সিএনজি স্টেশন থেকে গ্যাস নেওয়ার জন্য বুধবার বেলা দুইটার কিছু আগে রমনা থানার বিপরীত দিকে গাড়ি রাখেন মো. লিটন নামের একজন চালক। সামনে প্রচুর গাড়ি। বিকেল পাঁচটায় স্টেশন বন্ধ হয়ে যাবে। লিটন বলেন, এ সময়ের মধ্যে গ্যাস পাওয়া যাবে কি না তিনি জানেন না।
একই অবস্থা মানিকনগর টিটি পাড়া, যাত্রাবাড়ী, দয়াগঞ্জ, শাহবাগ, তেজগাঁও প্রভৃতি এলাকার সড়কে। গাড়ির দীর্ঘ সারির জন্য এসব এলাকায় বাড়তি যানজট চলছে কয়েক দিন ধরে। মিরপুর দারুস সালামের পূর্বাচল ও যমুনা ফিলিং স্টেশন, এস এস ফিলিং স্টেশন, কল্যাণপুরের এস এ খালেক ফিলিং স্টেশন, কাজীপাড়ায় সিডিসিসহ অনেক স্টেশনে চাপ কম থাকায় মাঝেমধ্যেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ, সাভার, টঙ্গী, চন্দ্রা, গাজীপুরসহ রাজধানীর চারপাশের অনেক সিএনজি স্টেশনে দিনে-রাতে বেশির ভাগ সময়ই গ্যাস থাকে না।
বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এমনিতেই গত ছয় মাস সিএনজি স্টেশনগুলো একরকম বন্ধ ই ছিল, যার জন্য জমানো তহবিল থেকে কর্মচারীদের বেতন দিতে হয়েছে। এখন গ্যাসস্বল্পতার কারণে নতুন সংকটে পড়তে হচ্ছে। এটা সরকারের দেখা উচিত।
0 comments:
Post a Comment