Sporty Magazine official website |

প্রশাসন ভারসাম্যহীন

Thursday, January 16, 2014

Share this history on :
প্রশাসন ভারসাম্যহীন জনপ্রশাসনের আদর্শ কাঠামো হলো পিরামিডের মতো। নিচের দিকে কর্মকর্তা থাকবেন বেশি এবং ধীরে ধীরে ওপরের স্তরে কর্মকর্তা হবেন কম। কিন্তু পর্যাপ্ত পদ না থাকা সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে ঢালাও পদোন্নতি দিয়ে জনপ্রশাসনের আদর্শ কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছে। ফলে এখন এর কাঠামো হয়েছে পেটমোটা আকৃতির।
মধ্যম স্তরের তিন পদ— উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা পদের চেয়ে দ্বিগুণ কিংবা তারও বেশি হয়ে গেছে। এই তিন স্তরে নিয়মিত এক হাজার ৩৬৭টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মকর্তার সংখ্যা দুই হাজার ৫৫৪ জন। অথচ নিচের স্তরে সহকারী সচিব ও জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এবং ওপরের স্তরে সচিবের সংখ্যা কম।
এ অবস্থায় নতুন সরকারের প্রথম কর্মদিবসে (১৩ জানুয়ারি) অতিরিক্ত সচিব পদে আরও ৮০ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই উপসচিব পদেও আরেক দফা পদোন্নতি হচ্ছে।
জনপ্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিচের স্তরে কর্মকর্তা কম হওয়ায় মাঠ প্রশাসনের কাজকর্মে নানাবিধ সমস্যা হচ্ছে। আর মধ্যম স্তরে মাত্রাতিরিক্ত কর্মকর্তা হওয়ায় প্রশাসনিক কিছু সমস্যা হচ্ছে। পদ না থাকায় পদোন্নতি পেয়েও কর্মকর্তাদের একধাপ নিচের পদে কাজ করতে হচ্ছে। আবার পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাদ পড়ায় একধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে পদোন্নতি পাওয়া কনিষ্ঠ কর্মকর্তার অধীনে কাজ করতে হচ্ছে।
দক্ষ ও গতিশীল জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে এ পরিস্থিতি অনুকূল নয় বলে মনে করেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদিত পদের বাইরে ঢালাও পদোন্নতি দেওয়ায় প্রশাসনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে গেছে। এতে দক্ষতা হ্রাস পাবে এবং কর্মকর্তারা প্রাধিকার অনুযায়ী সব সুযোগ-সুবিধাও পাবেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, প্রশাসন ক্যাডারে মোট কর্মকর্তার সংখ্যা এখন প্রায় চার হাজার ৮০০। গত পাঁচ বছরে কয়েক দফায় প্রায় আড়াই হাজার কর্মকর্তার পদোন্নতি হয়েছে।
বর্তমানে উপসচিবের নিয়মিত (ডিউটি) পদ আছে ৮৩০টি। গত পাঁচ বছরে কয়েক দফায় পদোন্নতির ফলে এখন কর্মরত উপসচিবের সংখ্যা এক হাজার ৩১৬। এই পদে শিগগির আরও কিছুসংখ্যক পদোন্নতি হতে যাচ্ছে।
যুগ্ম সচিবের নিয়মিত পদ আছে ৪৩০টি। পদোন্নতির ফলে এই পদে কর্মকর্তার সংখ্যা এখন ৯৩১। যুগ্ম সচিব পদে গত বছরের ১৮ জুলাই ৩২৬ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর আরও ৭০ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। অতিরিক্ত সচিবের নিয়মিত ১০৭টি পদের বিপরীতে কর্মকর্তা হয়েছেন ৩০৭ জন।
জনপ্রশাসনের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, অতিরিক্ত সচিব পদে পদের সংখ্যা কিছু বেশি হবে। কারণ, ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পদোন্নতির পর বলা হয়েছিল, যুগ্ম সচিব পদে অতিরিক্ত সচিবেরাও কাজ করতে পারবেন। সেই হিসাবে এই সংখ্যা কিছু বেশি হলেও এটি একেবারে সাময়িক ব্যবস্থা।
এই তিন পদে ঢালাও পদোন্নতি দেওয়া হলেও পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিন ধরে আগের পদেই কাজ করে যেতে হবে। কারণ, পদ সৃষ্টি না করেই পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পদে যে ৬৪৯ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে অধিকাংশই এখনো আগের পদেই চাকরি করছেন। এর পর থেকে যাঁদের পদোন্নতি হয়েছে তাঁরাও এক ধাপ নিচের পদেই চাকরি করে যাচ্ছেন। সর্বশেষ গত সোমবার পদোন্নতি পাওয়া ৮০ জন অতিরিক্ত সচিবকেও আগের পদে কাজ করে যেতে হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন সচিব আবদুস সোবহান সিকদার।
একজন কর্মকর্তা বলেন, আশির দশকে তিনটি ব্যাচে প্রায় এক হাজার ৬৫০ জন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁরাই এখন উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হচ্ছেন। ফলে বিরাটসংখ্যক এই কর্মকর্তারা অবসরে না যাওয়া পর্যন্ত সমস্যা দূর হবে না।
নিচের স্তরে কর্মকর্তা কম: নিচের স্তরের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব আছেন এক হাজার ৪৩৪ জন। কিন্তু পদ আছে প্রায় এক হাজার ৮০০। সহকারী সচিব (মাঠপর্যায়ে সহকারী কমিশনার) আছেন এক হাজার ৯১ জন। এই পদে দরকার আরও সাত থেকে আট শ কর্মকর্তা। নিচের স্তরে কর্মকর্তার অভাবে সহকারী কমিশনারের (এসি ল্যান্ড) ৪৮৭টি মঞ্জুরীকৃত পদের মধ্যে ১৪৬টি পদ শূন্য। আর বর্তমানে ওপরের স্তরে সচিব আছেন ৭১ জন।
জনপ্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, পদোন্নতির জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও তা পুরোপুরি মানা হয় না। দলীয়করণের উদাহরণ দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, জেলা প্রশাসক হন সবচেয়ে যোগ্য কর্মকর্তারা। কিন্তু এখন এক সরকারের আমলে জেলা প্রশাসক হলে আরেক সরকার তাঁদের পদোন্নতি দেয় না। এ জন্য মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তারা জেলা প্রশাসক হতে চান না।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন সচিব আবদুস সোবহান সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, তিনটি বড় ব্যাচের কারণে এমন মনে হচ্ছে। তবে চার-পাঁচ বছর পর তাঁরা অবসরে যাবেন, তাই নতুন পদ সৃষ্টি না করেই তাঁদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। এতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আর যাঁদের যোগ্যতা আছে তাঁদেরই পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে।
ওএসডি ৪০৫: প্রশাসন গতিশীল না হওয়ার আরেকটি উদাহরণ হলো বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি)। সরকারের পছন্দের নন, এমন কর্মকর্তাদের কাজ বা নির্দিষ্ট দায়িত্ব না দিয়ে বসিয়ে রাখা হলে তাঁদের ওএসডি কর্মকর্তা বলে। এসব কর্মকর্তাকে বসিয়ে রেখে বেতন ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই চর্চা বিএনপি আমলেও ছিল, এখনো আছে। বর্তমানে ওএসডি কর্মকর্তার সংখ্যা সব মিলিয়ে ৪০৫। এঁদের মধ্যে সচিব তিনজন, অতিরিক্ত সচিব ৫৪, যুগ্ম সচিব ১৫৮, উপসচিব ১০০, জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ৩২ এবং সহকারী সচিব ৫৮ জন। এঁদের মধ্যে অল্প কিছু কর্মকর্তা বদলি ও পদায়নের কারণে ওএসডি আছেন।

Thank you for visited me, Have a question ? Contact on : youremail@gmail.com.
Please leave your comment below. Thank you and hope you enjoyed...

0 comments:

Post a Comment